শিরোনাম

\ জীতেন বড়ুয়া \
খাগড়াছড়ি, ২৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : চার বছরেও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি জেলা সদরের হরিনাথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ। ভবন নির্মাণ কাজ দেরি হওয়াতে ব্যাহত হচ্ছে এলাকার শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে পুরাতন টিন শেড ভবনটি ভেঙে ফেলায় বিদ্যালয়ে ক্লাশ রুমের সংকট তৈরি হয়েছে। চার বছর আগে অস্থায়ীভাবে বাঁশ ও টিন দিয়ে নির্মিত স্কুল ঘরটি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার কোনো পরিবেশ নেই। দুইটি কক্ষে কোনো রকমে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান করা হয়। ভাঙাচোরা একটি কক্ষে অফিসের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহৃদয় দৃষ্টি কামনা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি জেলা সদরের গোলাবাড়ী ইউনিয়নের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হরিনাথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে একটি বিশাল এলাকার জন্য শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রেখে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ১ কোটি ৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়টির নির্মাণকাজ শুরু করে। নির্মাণ কাজের জন্য এলজিইডি দরপত্র আহ্বান করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউ টি মং কনস্ট্রাকশন কাজ পায়। কাজটি শুরুর তারিখ থেকে আঠারো মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে দীর্ঘ চার বছরেও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এতে এলাকার শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক সুরেশ জ্যোতি চাকমা এবং বিকাশ চাকমা বাসসকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ সংকট, ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ঘর, পর্যাপ্ত মাঠের অভাব এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত হরিনাথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া বর্ষা আসলে বাড়ে দুর্ভোগ। তখন শ্রেণিকক্ষে বৃষ্টির পানি ও কাদায় একাকার হয়ে যায়। নতুন ভবনটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করে শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানান তারা।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি অরুণ জ্যোতি চাকমা বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে পাঠদানের কোনো পরিবেশ নেই। বাঁশ ও টিন দিয়ে তৈরি বিদ্যালয়টিকে দেখলে গোশালার মতো মনে হয়। আসন্ন বর্ষার আগে নতুন ভবনের কাজ সমাপ্ত করা না হলে এ বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।
হরিনাথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণতি চাকমা বলেন, এই বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউ টি মং কন্সট্রাকশন এর স্বত্বাধিকারী ইউ টি মং-এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে ঠিকাদারের গাফিলতির কথা স্বীকার করে দ্রুত বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানান, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার শুভাশিস বড়ুয়া।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রাজু আহম্মেদ বাসসকে বলেন, বিদ্যালয়টি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ঠিকাদার ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি। তা ছাড়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণেও কাজের গতিশীলতা কমে গিয়েছিল। তিনি ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেবেন বলে জানান।
নতুন ভবনের কাজ অবিলম্বে শেষ করাসহ অন্যান্য সমস্যা কাটিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।