বাসস
  ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৮:৫৬

কুড়িগ্রামে জ্বালানি সংকটে জেলা প্রশাসনের নজরদারি

ছবি: বাসস

কুড়িগ্রাম, ২৩ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যেও সীমিত সরবরাহ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ফিলিং স্টেশন ও বিক্রয়কেন্দ্রগুলো।

জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়মিত সরবরাহের কারণে প্রায় ২০টি ফিলিং স্টেশনের অধিকাংশেই তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় যাতায়াত থেকে শুরু করে পরিবহন কার্যক্রম পর্যন্ত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের তেল সরবরাহ করতে পারছে না। দৈনিক প্রায় ৪ লাখ লিটার চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ৫০ হাজার লিটারের কাছাকাছি। 

এতে করে ডিজেল কিছুটা পাওয়া গেলেও পেট্রোল ও অকটেন প্রায় দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে।

এদিকে ঈদের ছুটিতে সরবরাহ সাময়িক বন্ধ থাকায় সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।

কুড়িগ্রাম খলিলগঞ্জের এসএস ফিলিং স্টেশনের পরিচালক জামান কাজল বাসস’কে বলেন, ‘জেলার চাহিদার চারভাগের একভাগও পূরণ হচ্ছে না। প্রতিদিনই ক্রেতাদের সঙ্গে পাম্পগুলোতে ঝামেলা তৈরি হচ্ছে। সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সহযোগিতা জরুরি।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। অনেকেই ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১শ’ টাকার বেশি পেট্রল দেয়া হচ্ছে না, তাও সব স্টেশনে মিলছে না।

মোটরসাইকেল চালক সাইফুল ইসলাম, রাশেদুল ও আকবর আলী জানান, ‘একাধিক স্টেশন ঘুরে ৪/৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ২শ’-৩শ’ টাকার পেট্রল পাওয়া যায়, সেটাও প্রতিদিন নয়। এতে আমাদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।’

অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার পরিবহন ব্যবসায়ীরা। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় যাত্রীসেবাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন কঠোর মনিটরিং জোরদার করেছে। জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, তিনি নিজে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে মনিটরিং টিম নিয়মিত ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করছেন। সব বিক্রয়কেন্দ্র প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং জ্বালানি সংকট নিরসনে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

তিনি আরও বলেন, এই সংকট মোকাবেলায় ক্রেতা-বিক্রেতা সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।