শিরোনাম

ঝালকাঠি, ২৩ মাচর্, ২০২৬ (বাসস) : বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ফিরে দেখা পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এ আয়োজন শুরু হয়।
এরআগে সকাল ১০টায় একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্কুল ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। এতে এসএসসি ৬১ ব্যাচ থেকে শুরু করে বর্তমান শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন প্রাক্তন ছাত্র বিএনপি’র চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের এক দপ্তরি প্রতীকী ঘণ্টা বাজান। পরে বিভিন্ন পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়। এরপর শপথ বাক্য পাঠ করা হয়। পরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় জাতীয় পতাকা, উৎসবের পতাকা ও জিলা স্কুলের পতাকা উত্তোলন করা হয়। যৌথভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পবিত্র কুমার দাস।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পবিত্র কুমার দাস। তিনি বলেন, ‘সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আমার প্রত্যাশা, একটি বাসযোগ্য, সুস্থ, সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে তোমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো বলেন, ‘পারস্পরিক মত বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের ঐতিহ্য ও কৃষ্টি অনুসরণ করে চলতে হবে। ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় যে স্বপ্ন দেখায়, তা যেন যুগযুগান্তর ধরে আমাদের পাথেয় হয়। এ স্বপ্ন যেন জাতি ধারণ ও লালন করে-এটিই প্রত্যাশা। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে।’
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাবেক শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল ইসলাম ও তাহমিদুর রহমান যুবরাজ।
অনুষ্ঠানটি ঘিরে উৎসবে মেতে ওঠেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর পরিচিত মুখগুলো কাছে পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। সবাই যেন খুঁজে ফিরছিলেন পুরোনো সব স্মৃতি। গানে, আড্ডায়, স্মৃতিচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের প্রথম দিনের অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে রয়েছে স্মৃতিচারণা ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, আতশবাজি উৎসব, স্কুলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই স্কুলের বয়স প্রায় ১১৭ বছর। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাজানো হয় পুরো স্কুল। এতে অংশ নেন প্রায় দেড় হাজার প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী। আলোচনা সভা, স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন, স্মৃতিচারণা, খেলাধুলা, র্যাফল ড্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে সাজানো হয় পুরো অনুষ্ঠান।
পুনর্মিলনীতে আসা সাবেক শিক্ষার্থী রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘সহপাঠী ও সিনিয়র ভাইদের পেয়ে অন্য রকম একটি দিন কাটল। মনে হয়েছে, আবারও ছাত্রজীবনে ফিরে গেছি।’
এসএসসি ৬১ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অধ্যাপক এস এম শাহজাহান বলেন, ‘শৈশবে এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছি, খেলাধুলা করেছি। জীবনের মধুময় শৈশব ও কৈশোর একসঙ্গে পার করেছি। উন্নত জীবন গড়তে গিয়ে ও কর্মজীবনে প্রবেশ করে বাল্যবন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। এভাবে কখনো প্রাণের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে তা ভাবতে পারিনি।’
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক রাইয়ান কামাল বাসস’কে বলেন, ‘ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত। স্কুলজীবনের পরে অনেকের সঙ্গেই দেখা-সাক্ষাৎ হয়ে উঠছিল না। সবাইকে একত্র করার জন্য স্কুলের বন্ধুদের একত্র করার জন্যই এই আয়োজন করা হয়েছে।
দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের প্রথম দিনের অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে রয়েছে স্মৃতিচারণা ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, আতশবাজি উৎসব, স্কুলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।