বাসস
  ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৫

কুমিল্লার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাইয়েদার গ্রামে শোকের মাতম

ফাইল ছবি

লক্ষ্মীপুর,২৩ মার্চ ২০২৬(বাসস) : জেলার সদর উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ বছরের শিশু সাইয়েদার মৃত্যুতে বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চর মনসা গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ সিরাজ উদদৌলার কন্যা সায়েদা। নিহতের স্বজনরা রোববার রাত ১১টার দিকে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত মধ্য রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর (দক্ষিণ) উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হন। তাদেরই একজন সাইয়েদা।

সাইয়েদার পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার ফরিদপুর থেকে লক্ষ্মীপুরে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। রাত প্রায় ৩টার দিকে বাসটি কুমিল্লা পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় ট্রেনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সাইয়েদাসহ অন্তত ১২ যাত্রী। এ সময় গুরুতর আহত হন সাইয়েদার মা রাজিয়া বেগম, বাবা হাফেজ সিরাজুল ইসলাম ও বড় বোন আফনান (২২)। তারা বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন। এরমধ্যে আফনান ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) তে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, সাইয়েদার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি গ্রামে হলেও নদী ভাঙনের শিকার হয়ে তার বাবা হাফেজ সিরাজ উদদৌলা সদর উপজেলার চরমনসা গ্রামে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। হাফেজ সিরাজ উদদৌলা দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের একটি জামে মসজিদের খতিব হিসেবে কর্মরত। দুই বছর আগে বড় ছেলে রোমানকে দুরারোগ্য ব্যাধিতে হারানোর পর দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ফরিদপুরেই থাকতেন। এবারের ঈদে গ্রামের বাড়িতে নির্মাণাধীন নতুন ঘরে তোলার কথা ছিল তাদের।

সাইয়েদার চাচি সাহিনুর সুলতানা বলেন, দুই বছর আগে হাফেজ সিরাজ উদদৌলা তার এক ছেলেকে হারিয়েছেন। এখন ছোট মেয়েটাও চলে গেল। বড় মেয়েটা আইসিইউতে, আর হাফেজ ও তার স্ত্রীও মারাত্মক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন।

তিনি বলেন, এবার বাড়িতে ফিরে নতুন ঘরে উঠে আনন্দ করার কথা ছিল। কিন্তু এখন আমরা শোকে পাথর হয়ে গেছি। ওর মা-বাবা ফিরে এসে যখন সন্তানের কবর দেখবেন তখন তাদের কী সান্ত্বনা দেব?

সাইয়েদার মামা আবি আবদুল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত সাইয়েদার বড় বোন আফনান (২২), বাবা সিরাজ উদদৌলা ও মা রাজিয়া সুলতানা বর্তমানে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এরমধ্যে আফনান আইসিইউতে ভর্তি। শুনেছি তার অবস্থাও সংকটাপন্ন।

তিনি বলেন, সাইয়েদার মা রাজিয়া সুলতানার শরীরের হাড় ভেঙে গেছে এবং বাবা সিরাজ উদদৌলা মাথায় প্রচ- আঘাত পেয়েছেন।

সাইয়েদার ফুফা আব্দুর রব বলেন, মেয়েটা প্রতিবছর ঈদে বাড়িতে এসে আমাদের গ্রামটাকে কয়েকদিন ধরে মাতিয়ে রাখতো। আনন্দ-উল্লাস করতো। সাইয়েদা এবারও সেই আনন্দে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সব আনন্দ কেড়ে নিল।