শিরোনাম

মো. মামুন ইসলাম
রংপুর, ২০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর। উত্তরাঞ্চলের প্রধান নগরী রংপুরে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। ঈদের দিন থেকেই দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে নগরী ও জেলার বিভিন্ন বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রকে নতুন সাজে প্রস্তুত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উন্নত সুযোগ-সুবিধা, বর্ণিল সজ্জা এবং বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ঈদের ছুটিকে আনন্দমুখর করে তুলতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
ঈদকে কেন্দ্র করে রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। শহরের ভেতর থেকে শুরু করে আশপাশের উপজেলা পর্যন্ত পার্ক, পর্যটন কেন্দ্র, সেতু ও দর্শনীয় স্থানগুলোকে করা হয়েছে আকর্ষণীয় ও দর্শনার্থীবান্ধব। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, গত বছরের মতো এবারও ঈদের দিন থেকেই শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের ঢল নামবে এসব কেন্দ্রে।
নগরীর জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে রংপুর চিড়িয়াখানা, সুরভী এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক, টাউন হল চত্বর, তাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর, চিকলী ওয়াটার পার্ক, শিরিন পার্ক, প্রয়াস সেনা পার্ক, কালেক্টরেট সুরভী উদ্যান এবং রূপকথা থিম পার্ক-এ নেওয়া হয়েছে বিশেষ আয়োজন। অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত ভিন্নজগত এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টার, অন্নদানগর, মায়া ভুবন, তিস্তা পার্ক, আলী বাবা থিম পার্ক, তাজ ইকোভেঞ্চার, মহিপুর ঘাট, তিস্তা ব্রিজ এবং ফকিরবাড়ি পল্লী জাদুঘর-এও দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে বাড়তি সুবিধা।
এই ঈদে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চিকলী ওয়াটার পার্ক, যা রংপুর নগরীর বৃহত্তম বিনোদন পার্ক হিসেবে পরিচিত। প্রায় ১০০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই পরিবেশবান্ধব পার্কে রয়েছে জলক্রীড়া, শিশুদের খেলার জায়গা, কৃত্রিম ফোয়ারা, সবুজ বাগান এবং স্পিড বোটসহ নানা আয়োজন। পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি হয়ে উঠেছে অন্যতম প্রধান গন্তব্য।
একইভাবে রংপুর চিড়িয়াখানা-ও ঈদ উপলক্ষে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। ২২ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই চিড়িয়াখানাটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিসেবে পরিচিত এবং এখানে রয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, গণ্ডার, জলহস্তী, কুমিরসহ নানা বন্যপ্রাণী। শিশুদের জন্য রয়েছে ৫০টিরও বেশি রাইড, কৃত্রিম হ্রদ ও ভূতের গুহা, যা ঈদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
অন্যদিকে রংপুরের অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী বিনোদন কেন্দ্র ভিন্নজগত এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টার দর্শনার্থীদের নিয়ে যায় এক ভিন্ন অভিজ্ঞতায়। এখানে থাকা প্ল্যানেটেরিয়ামে ‘বিগ ব্যাং’ তত্ত্বের মাধ্যমে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ইতিহাস জানা যায়। তাজমহল, আইফেল টাওয়ার ও চীনের মহাপ্রাচীরের প্রতিরূপ, সুইমিং পুল, পাখির অভয়ারণ্য, ড্রিম প্যালেসসহ নানা আকর্ষণ একে করে তুলেছে অনন্য। একই সঙ্গে শান্ত পরিবেশে অবকাশ যাপনের সুযোগও রয়েছে এখানে।
ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রতি আগ্রহীদের জন্য তাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর সবসময়ই বিশেষ আকর্ষণ। অপরদিকে পীরগঞ্জ উপজেলার অন্নদানগর বিনোদন কেন্দ্রটি আধুনিক রাইড, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কোলাহলমুক্ত পরিবেশের জন্য ঈদ ভ্রমণে আগতদের কাছে হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় গন্তব্য।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটিতে জলক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে রংপুরবাসী ও বাইরের পর্যটকদের জন্য এবারের ছুটি হয়ে উঠবে বৈচিত্র্যময় ও আনন্দঘন। বিশেষ করে চিকলী ওয়াটার পার্ক-এ জলক্রীড়া, অন্নদানগর-এ সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং তাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর-এ ঐতিহাসিক ভ্রমণ দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ দেবে।
এদিকে বিপুল জনসমাগমকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও বিনোদন কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রমও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অ্যামিউজমেন্ট পার্কসহ সব জনসমাগমস্থলে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদের ছুটিতে রংপুর প্রস্তুত এক বর্ণিল, প্রাণবন্ত ও নিরাপদ বিনোদন নগরীতে পরিণত হতে, যেখানে আনন্দ আর উৎসবের আবহে মিলবে ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাঙ্ক্ষিত অবকাশ।