বাসস
  ১০ জুন ২০২৬, ২২:৫৮

মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নে আইনি লড়াই জোরদার করা হবে: আহমেদ আযম খান

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। ফাইল ছবি

ঢাকা, ১০ জুন, ২০২৬ (বাসস) : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, বেহাত হওয়া রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নে আইনি লড়াই জোরদার করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বিভিন্ন রিট মামলা, চাকরি সংক্রান্ত মামলা, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল মামলা এবং আদালত অবমাননা সংক্রান্ত মামলাসমূহ দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। 

আহমেদ আযম খান বলেন, অতীতে বিভিন্ন কারণে সরকারি মামলাগুলোতে রাষ্ট্রের স্বার্থ যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের দক্ষ আইন কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, সলিসিটর উইং এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে বিদ্যমান আইনি জটিলতাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের পথ সুগম হবে।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং বিভিন্ন মহলের যোগসাজশে রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সম্পদ বেহাত হয়েছে। বর্তমান সরকার ও মন্ত্রণালয় এসব সম্পদ পুনরুদ্ধারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি সম্পদ জনগণের সম্পদ। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেহাত হওয়া সকল সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।

মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের তালিকা প্রণয়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়গুলোকে তথ্যনির্ভর ও নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অতীতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, তা গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত ও আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অযোগ্য ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন, অথচ তালিকাভুক্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হবে, অন্যদিকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান আরও সুদৃঢ় হবে।

দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে আহমেদ আযম খান বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  

সরকারের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সকলকে দায়িত্বশীলতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। আইনের শাসন, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই আমরা একটি উন্নত ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

কর্মশালায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সচিব মো. আশরাফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজ্ঞ সলিসিটর, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তাসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।