বাসস
  ২০ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩০

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে দ্রুত হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হবে : অর্থমন্ত্রী

ছবি : বাসস

চট্টগ্রাম, ২০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে দ্রুত হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ হাতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
 
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলায় জাদুঘরটির অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তাই দ্রুত সংস্কার ছাড়া বিকল্প নেই। স্থাপনাটির সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কাঠামোগত সমস্যা বেড়েছে। এমনকি বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সংলগ্ন জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন অর্থমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। 

এসময় বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা মন্ত্রীকে জাদুঘরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এখানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হয়েছিলেন। তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করতে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ জরুরি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে অবস্থিত জিয়া স্মৃতি জাদুঘরসহ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্থাপনাকে এতদিন যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অযত্ন ও অবহেলায় রাখা চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে দ্রুত হ্যারিটেজ ঘোষণা দিয়ে সংস্কার করা হবে। জিয়া স্মৃতি জাদুঘর আমাদের গুরুত্বপূর্ণ হেরিটেজ প্রপার্টি। এটিকে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, জাদুঘরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা পায়। এই জাদুঘর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথেও অঙ্গাঅঙ্গি জড়িত। কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলার কারণে স্বাধীনতার অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

অমূল্য ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও স্থাপনাগুলো রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব, যাতে নতুন প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জাদুঘরের অবস্থা এতটাই নাজুক যে সরাসরি আধুনিকায়ন (রেনোভেশন) সম্ভব নয়; আগে জরুরি ভিত্তিতে অবকাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। এ কাজ শুরু করতে দেরি হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

তিনি বলেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জাদুঘরের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জাদুঘরের প্রদর্শনী ও উপকরণগুলোও পুনর্বিন্যাস করা হবে, যাতে দর্শনার্থীরা ইতিহাস সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা পান।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। পরবর্তীতে সেই স্থানেই জিয়া স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।