শিরোনাম

ফেনী, ১৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জেলার দাগনভুঁইয়া উপজেলার দাদনার খাল পুন:খনন কাজের উদ্বোধন করেছেন।
আজ দুপুরে উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের মীরেরপুল এলাকায় এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন,শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী কৃষি উৎপাদন বাড়াতে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় বেদখল হতে হতে আজ আবর্জনায় পূর্ণ খালগুলো খননের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচি পুনরায় গ্রহণ করেছেন। তিনি আজ নিজেই দিনাজপুরের কাহারোল থেকে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। সারাদেশে ৫৩ জেলায় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যগণ আজ এক যোগে এ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, এক সময় মানুষ কৃষি উৎপাদনে পানির জন্য সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতেন। এখন ভূগর্ভস্থ পানিস্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এক সময় ১০০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া গেলেও এখন দুই থেকে ৩০০ ফুট গভীরে খনন করতে হচ্ছে। এতে করে পানি পাওয়া কষ্ট এবং ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া এভাবে খাল দূষণের ফলে পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পুন:খননের মাধ্যমে খাল গুলো নদীর সাথে সংযোগ করে দিলে একদিকে যেমন সেচের জন্য পানি পাওয়া সহজ হবে তেমনি বর্ষা মৌসুমেও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মানুষ রেহাই পাবে।
মন্ত্রী খাল পুন:খনন কার্যক্রমে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে আরো বলেন, প্রথমে খালের সীমানা নির্ধারণ করে যেখানে অবৈধ দখল আছে তা দখলমুক্ত করতে হবে। কোথাও কারো খাল দখল করে রাখার সুযোগ নেই।
জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় ফেনী সদর উপজেলায় বিরলী ও নেয়াজপুর খালসহ জেলার প্রতিটি উপজেলায় দুইটি করে খাল পুন:খননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।এছাড়া পরশুরাম ও ফুলগাজীতে অপর একটি প্রকল্পে ১৩ টি খালের নাম প্রেরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শাহীদুল ইসলাম জানান, দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল, জলাধার খনন ও পুন:খনন কর্মসূচির আওতায় 'বি-স্ট্রং' প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার দাগনভুঁইয়া উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের দাদনার খালের ৭ কিলোমিটার পুন:খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালটি বসুরহাট খাল থেকে উৎপত্তি হয়ে ইয়াকুবপুর, দাগনভুঁইয়া সদর ইউনিয়ন হয়ে দাগনভুঁইয়া পৌরসভার পেছন দিয়ে চৌধুরী হাট হয়ে ছোট ফেনী নদীতে মিলিত হয়েছে।
এটি খনন করা হলে ৩২০ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। এতে করে অন্তত ১শ কোটি টাকার ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এছাড়াও দাগনভুঁইয়া উপজেলায় অবস্থিত ৪২টি খালের তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে সকল খাল-নালা পুন:খনন কার্যক্রম নেয়া হবে বলে জানান উপস্থিত বক্তারা।
জেলা প্রশাসক মনিরা হকের সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষক ইমাম হোসেনের সঞ্চালনায় আজ এ উদ্বোধন কর্মসূচির বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, বিএডিসির উপ প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরনবী, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ, দাগনভুঁইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শাহীদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার,সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল ও যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিকসহ আরও অনেকে।