বাসস
  ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৯:১১

নদী বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি শনিবার লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকায় নদী তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি: বাসস

লক্ষ্মীপুর, ১৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্তভাবে নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, নদী বাঁধ নির্মাণে কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।  

তিনি বলেন, যেসব স্থানে নদী বাঁধের কাজ চলছে, সেসব প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

আজ শনিবার লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ১শ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন নদী তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় প্রায় ৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক প্রকল্পে কাজের পরিবর্তে লুটপাট হয়েছে। যারা আগে ক্ষমতায় ছিলেন, তারা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বদলে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছেন। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। প্রকল্পের নামে অর্থ লুটপাটের কারণে প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি এবং এতে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যেসব কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ জনগণের, তাই সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।’

পানিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, নদী ভাঙনের কারণে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। নদীর ভাঙনে বহু মানুষ তাদের বাড়িঘর, জমিজমা ও জীবিকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নদীমাতৃক এই অঞ্চলে ভাঙন ও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিকাজও বাধাগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, ‘এখন একটা নতুন সুযোগ এসেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশপ্রেমিক নতুন সরকার দেশের দায়িত্ব পেয়েছে। আমরা জনগণের পাশে দাঁড়াতে চাই এবং দীর্ঘদিনের জনদাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছি।’ 

তিনি জানান, জনগণের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো সমন্বয় করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, চলমান প্রকল্পগুলোর কাজের মান, অগ্রগতি এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়মিতভাবে তদারকি করা হচ্ছে। মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও এলাকার বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে এ অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই যাতে বাঁধের কাজ দৃশ্যমান অগ্রগতি লাভ করে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করে, সে লক্ষ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. সাহাদাত হোসেন সেলিম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান হাছিব, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দ।