বাসস
  ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৩:৩০

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন হবে : অর্থমন্ত্রী 

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী । ফাইল ছবি

ঢাকা, ৯ মার্চ ২০২৬ (বাসস) : অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি স্বচ্ছ ও অরাজনৈতিকভাবে বাস্তবায়িত হবে, যাতে দেশের যোগ্য নাগরিকরা এর সুবিধা পান।

আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলরুমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধনের প্রাক্কালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি।

তিনি বলেন, এটি একটি বড় কর্মসূচি। বাংলাদেশের ইতিহাসে দারিদ্র্য দূরীকরণে এর আগে এত বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

খসরু জানান, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিবারের নারী প্রধানদের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং অর্থনৈতিক সহায়তা তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

‘আমরা এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই, যেখানে অর্থনৈতিক সুবিধা প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছাবে’-বলেন তিনি। 

বিরোধী দলের নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দারা এই কার্ড পাবেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক বৈষম্যের ধারণা সরাসরি নাকচ করে দেন।

বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী আসনের বাসিন্দারা কার্ড পাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী রাজনৈতিক বৈষম্যের ধারণা সরাসরি নাকচ করেন।

তিনি বলেন, এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। এটি রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই সব নাগরিক সরকারি সেবা ও সুবিধা পাবেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কোথাও কোনো অনিয়ম হলে তা জানাতে হবে এবং প্রকল্পটি সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে।

খসরু আরও জানান, নারী সদস্যবিহীন অতিদরিদ্র পরিবারগুলোকে কীভাবে সহায়তা দেওয়া যায়, তা কর্মসূচির পাইলট ধাপ শেষে পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দেশের সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং দারিদ্র্য হ্রাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণের ভাবনার অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য দেশের দরিদ্র পরিবারগুলোকে, বিশেষ করে নারী নেতৃত্বাধীন পরিবারগুলোর ক্ষমতায়ন করা।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম ধাপে অতিদরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, এরপর নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ধীরে ধীরে দেশের সব যোগ্য নারী প্রধান পরিবার এ সুবিধা পাবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো, এসব নারীকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষমতায়িত করা এবং তাদের পরিবার ও সমাজে যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা।’

অর্থমন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাতীয় বাজেট থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন হবে। তবে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখেই কীভাবে এই ব্যয় বহন করা হবে সে বিষয়ে বিস্তৃত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কর্মসূচির ব্যয় ব্যবস্থাপনা, বাজেট সংস্থান এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

খসরু জানান, শুরুতে এটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এই পর্যায়ে উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, উপকারভোগীদের তালিকা একটি স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতিত্ব নেই।

তিনি জানান, মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে অতি দরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরপর ধীরে ধীরে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে এবং পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী সব যোগ্য নারীপ্রধান পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি এই উদ্যোগকে সাহসী ও মানবিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের জনগণ দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য শক্তিশালী সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে এই কর্মসূচিতে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থায় অপব্যবহার বা অনিয়মের সুযোগ খুবই সীমিত থাকবে। পুরো ব্যবস্থাটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচি নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সামান্য অর্থনৈতিক সহায়তাও দরিদ্র পরিবারগুলোর দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে বড় সহায়তা হতে পারে।

তিনি বলেন, এ কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং সমাজে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দেশের দরিদ্র মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তুলতে চাই।