বাসস
  ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১:৫৯

ডিএনসিসির তহবিল বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করলেন প্রশাসক

ঢাকা, ৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) তহবিল সংক্রান্ত বিষয়ে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।

তিনি বলেন, সাবেক প্রশাসক দায়িত্ব হস্তান্তরের দিন কর্পোরেশনের ২৬টি ব্যাংক হিসাবে ১ হাজার ২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা থাকার যে দাবি করেছেন, তা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ডিএনসিসির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

প্রশাসক জানান, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং ঠিকাদারদের বিল সাধারণ তহবিল থেকেই পরিশোধ করা হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্ব গ্রহণের সময় ডিএনসিসির সাধারণ তহবিলে নগদ ক্যাশ ব্যালেন্স ছিল প্রায় ২৫ কোটি টাকা। এছাড়া ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে ছিল ৬৪২ কোটি টাকা, যা আপদকালীন দায় মেটানোর জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, চলতি মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ১৩ কোটি টাকা সংরক্ষিত ছিল। ফলে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের জন্য কার্যত অবশিষ্ট ছিল প্রায় ১২ কোটি টাকা।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সাবেক প্রশাসকের উল্লেখ করা মোট অর্থের বড় একটি অংশ কর্পোরেশনের বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিলে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে রাখা আছে। এর মধ্যে রয়েছে জামানত তহবিল, পেনশন তহবিল, শিক্ষা তহবিল এবং জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ)।

তিনি বলেন, এসব তহবিলের অর্থ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত থাকে এবং তা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কিংবা ঠিকাদারদের বিল পরিশোধে ব্যবহার করা যায় না।

ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের দায়িত্বকালে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে কর্পোরেশনের সাধারণ তহবিলে ক্যাশ ব্যালেন্স প্রায় ৫৯৭ কোটি টাকা ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রশাসক হিসেবে কর্পোরেশনের আর্থিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ফিক্সড ডিপোজিট নগদায়ন না করার বিষয়ে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও জানান।

তিনি বলেন, কর্পোরেশনের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে সঠিক তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা জরুরি। তাই জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে এ ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো।