শিরোনাম

ওমর ফারুক
রাজশাহী, ৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কেনাকাটায় শিক্ষানগরী রাজশাহীর মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকেই পাল্টে গেছে শহরের দৃশ্যপট। সকালের রোদ উপেক্ষা করে কিংবা ইফতারের পরে সন্ধ্যায় সব সময়ই এখন মানুষের গন্তব্য বিপণিবিতানগুলো।
বড় বড় আধুনিক শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান, সর্বত্রই এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। রেশম নগরীর ঐতিহ্য আর আধুনিক ফ্যাশনের এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যাচ্ছে এবারের ঈদ বাজারে।
শহরের প্রধান এলাকা সাহেব বাজার আরডিএ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই। এখানকার পোশাকের বৈচিত্র্য আর সাশ্রয়ী দামের কারণে নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত—সব শ্রেণির মানুষের প্রথম পছন্দ এই মার্কেটটি।
বিশেষ করে নারীদের থ্রি-পিস, সুতি শাড়ি এবং শিশুদের বাহারি পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে, তরুণদের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে নিউ মার্কেট ও থিম ওমর প্লাজায়। সেখানে ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবি, জিন্স প্যান্ট এবং শার্টের দোকানে চলছে শেষ মুহূর্তের যাচাই-বাছাই।
রাজশাহীর কেনাকাটার কথা উঠলে যা বাদ দেওয়া অসম্ভব, তা হলো সিল্ক। বিসিক শিল্প এলাকার সপুরা সিল্ক, আমানা সিল্ক ও উষা সিল্কের শোরুমগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক ও ক্রেতারা ছুটে আসছেন রাজশাহীর আসল সিল্কের শাড়ি ও পাঞ্জাবি সংগ্রহ করতে।
এবার গরমে আরামদায়ক কাপড়ের ওপর ভিত্তি করে মসলিন ও সফট সিল্কের ওপর হাতে আঁকা (হ্যান্ড পেইন্ট) এবং এমব্রয়ডারির কাজ করা পোশাকগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, এবার ডিজাইনে নতুনত্ব আসায় গত কয়েক বছরের তুলনায় বিক্রি অনেক বেশি।
শহরের অভিজাত মার্কেটগুলোর পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে সাহেব বাজার ও রেলগেট এলাকার ফুটপাত। সাশ্রয়ী দামে জুতো, বেল্ট, টুপি এবং কসমেটিকস কিনতে এখানে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ।
ফুটপাতের বিক্রেতারা জানান, ইফতারের পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বেচাকেনা সবচেয়ে ভালো হচ্ছে। কেবল পোশাক নয়, কেনাকাটার তালিকায় যোগ হয়েছে ঘর সাজানোর সামগ্রী এবং আতর-টুপিও।
কেনাকাটার এই মহোৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যাতে যানজটে ক্রেতাদের ভোগান্তি না হয়। এছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশি টহল এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। জাল টাকা শনাক্তকরণে বিভিন্ন মার্কেটে বিশেষ বুথও বসানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে রাজশাহীর ঈদ বাজার এখন জমজমাট। ক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের তুলনায় পোশাকের দাম কিছুটা বাড়তি, তবে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে কেনাকাটায় কোনো কমতি রাখছেন না তারা।
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, ঈদের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার রাজশাহীতে রেকর্ড পরিমাণ কেনাকাটা হবে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বাসসকে বলেন, ঈদ নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার তার সবটাই গ্রহণ করা হয়েছে।