শিরোনাম

মুহাম্মদ আমিনুল হক
সুনামগঞ্জ, ৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): জেলায় নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য বেষ্টিত খরচার হাওর পাড়ের বিশ্বম্ভপুর উপজেলা। সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিশাল খরচার হাওরে বর্ষায় শুধু পানি আর পানি। এখানে রয়েছে হাওর বিলাস। পর্যটকরা এখানে ঘুরতে এসে হাওর বিলাসে বসে হাওরের মনোমুগদ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করেন। এছাড়াও উপজেলায় রয়েছে অতি প্রাচীন মুক্তিখলা-মল্লিকপুর গ্রাম।
মুক্তিখলা-মল্লিকপুর গ্রামে রয়েছে তাজমহলের আদলে প্রাচীন একটি মসজিদ। গ্রামের স্বচ্ছল ব্যক্তিরা ঐতিহ্য, নান্দনিক কারুকার্য ও তাজমহলের আদলে তিন গম্বুজ ওয়ালা মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। মসজিদটি এলাকায় শাহী জামে মসজিদ নামে পরিচিত। কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে আজও। ভূকম্পনে মসজিদটির কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। মসজিদটির বয়স ৮০ বছরের বেশি হবে বলে জানান এলাকার প্রবীণ মানুষেরা। মসজিদের দেয়ালে নির্মাণ সাল লিখা আছে, ১৫-০৯- ১৩৫৬ বাংলা। এ মসজিদটি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সড়কের পাশ্ববর্তী মুক্তিখলা-মল্লিকপুর গ্রামে অবস্থিত।
ব্যাংক কর্মকর্তা তাজুল ইসলামের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সৌখিন ধনাঢ্য ব্যক্তিদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় খরচার হাওর পাড়ের মুক্তিখলা-মল্লিকপুর গ্রামে তাজমহলের আদলে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি তৈরি করা হয়। দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় ভাবে তৈরি করতে সেই সময়ে ৪৫-৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল।
তিনি বলেন, মসজিদের কারিগর ছিলেন পুরান ঢাকার। মসজিদের ভেতরে রয়েছে সুনিপুণ কারুকাজ। গম্বুজে লাগানো পাথর সড়ানো হয়েছে ভেঙে পড়ে যাওয়ার ভয়ে।
গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ গিয়াস উদ্দিন ও আব্দুজ জহুর জানান, মসজিদটির বয়স ৮০ বছরের এর বেশি। সরকার প্রাচীন ও ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্থাপনা রক্ষাণাবেক্ষণ করছে। তাই এ মসজিদটিকেও সরকারের তত্ত্বাবধানে নেয়ার দাবি জানান তারা।
মসজিদ কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, মসজিদটি পুরাতন ও দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় আমরা গর্ববোধ করি। আমাদের পূর্ব পুরুষদের নির্মিত মসজিদটি রক্ষাণাবেক্ষণের দায়িত্ব এখন আমাদের। এলাকার মুসল্লীদের নামাজ পড়ার একমাত্র মসজিদ এটি। এই মসজিদটি না থাকলে উপজেলা সদরে, না হয় কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে নামাজ পড়তে হতো। মসজিদটি সংষ্কারের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল কাসেম জানান, এই মসজিদে মরহুম মাওলানা মুছিহুর রহমান সাদী, মাওলানা আব্দুর রশীদ বড়ঘাটী নিয়মিত ওয়াজ করতেন। এখন আমিও এর খেদমতে নিয়োজিত। দীর্ঘদিন ধরে ইমামতি করছি। মসজিদ আরো বড় করা প্রয়োজন। জায়গা সংকুলান হয়না। সংস্কার ও মসজিদের সামনে বিল্ডিং হলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে।
মুক্তিখলা-মল্লিকপুর গ্রামের সার্জেন্ট (অব.) জিয়াউর রহমান বাসসকে বলেন, আমাদের গ্রামটি অতি পুরাতন গ্রাম। এ মসজিটি (গুম্বুজওয়ালা মসজিটি) কেন্দ্রীয় মসজিদ। এলাকার লোকজন এ গুম্বুজওয়ালা মসজিদে নামায আদায় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
তিনি বলেন, ইদানিংকালে মুক্তিখলা-মুল্লিকপুর গ্রামটি শিক্ষা দীক্ষায় অনেকটা এগিয়েছে। গ্রামে রয়েছে ১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩ টি মাদ্রাসা। এইসব প্রতিষ্ঠানে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করে। অনেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে পাশ্ববর্তী বিশ্বম্ভপুর উপজেলায় হাইস্কুল ও কলেজে গিয়ে পড়াশোনা করছেন। গ্রামের অনেক ছেলে-মেয়েরা প্রবাসে আছেন।
সার্জেন্ট (অব.) জিয়াউর রহমান বলেন, কৃষি নির্ভর এই গ্রামটির দিকে সরকার নজর দিলে আরো এগিয়ে যেতো। প্রকৃতির অপরুপ রূপে সজ্জিত বিশ্বম্ভপুর উপজেলা।
বিশ্বম্ভপুর উপজেলার সাবেক ইউএনও সাদিউর রহিম জাদিদ উপজেলাকে সাজিয়েছিলেন নিজের মতো করে। এখানে নির্মাণ করে গেছেন হাওর বিলাস, কারেন্টের বাজারে বোয়াল চত্বর, পলাশ ও বিশ্বম্ভপুরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ভাষ্কর্য, উপজেলার প্রতিটি পয়েন্ট ও বাজারকে করেছেন সৌন্দর্যমন্ডিত।