বাসস
  ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৭:১২

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইউজিসিকে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

বুধবার ইউজিসি ভবনে কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি : বাসস

ঢাকা, ৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে (ইউজিসি) আরও গতিশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। 

একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম শুধু তদারকির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজ উদ্যোগে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন।

আজ বুধবার ইউজিসি ভবনে কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ। এতে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান স্বাগত বক্তব্য দেন। 

অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব ইউজিসি’র প্রতিষ্ঠা, কার্যক্রম, অর্জন ও ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এসময় ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম এবং সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষ মানবসম্পদ সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দক্ষতা ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম প্রবর্তনের পরামর্শ দেন।

শিক্ষা খাতকে নিজের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা দর্শনের পথ ধরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের দেশে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আমাদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও নেই। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’

এই সংকট উত্তরণে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা এবং একটি কার্যকর রিসার্চ কাউন্সিল গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

বিদেশে অবস্থানরত মেধাবী বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের দেশে ফিরিয়ে এনে শিক্ষা ও গবেষণায় সম্পৃক্ত করতে ‘রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন’ কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সাত কলেজের সমস্যার একটি সাময়িক সমাধান হয়েছে। স্থায়ী সমাধানে দ্রুত অংশীজনদের সাথে আলোচনা করা হবে।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী ২০২৪ সালের পরবর্তী সময়ের অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা লিখিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য কমিশনকে অনুরোধ করেন।