শিরোনাম

গাজীপুর, ৪ মার্চ ২০২৬ (বাসস): গাজীপুরে আব্দুর রহিম (১৩) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র হত্যায় ভিকটিমের বড় ভাইসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মাদ্রাসা ছাত্র আব্দুর রহিমকে হত্যার পর গভীর শালবনে গর্ত করে মাটি চাপা দিয়ে মরদেহ গুম করা হয়েছিল। গুম হওয়ার প্রায় ২৫ দিন পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
আজ বুধবার গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবু খায়ের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. মোজাম্মেল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিপি রানী সিনহা।
পুলিশ জানায়, গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ডগরি নয়াপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে আ. রাহিম স্থানীয় নয়াপাড়া এবাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
গত ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর থেকে সে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তার পিতা ৩ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
এরই প্রেক্ষিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানাধীন বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকায় বাঁশরী রিসোর্ট সংলগ্ন শালবন থেকে মাটি চাপা দেওয়া অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহটি শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হলে পোশাক দেখে রাহিমের পিতা তার ছেলেকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় মামলা রুজু করা হয় এবং এসআই (নিঃ) মো. মোজাম্মেল হককে তদন্তভার দেওয়া হয়।
তদন্তে জানা যায়, রাহিম তার বাবার কাছে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য জোরাজুরি করছিল। এ বিষয় নিয়ে বড় ভাই আলামিন হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে বন্ধু আশিক আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তারা রাহিমকে শালবনের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মাফলার দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগানো হয়।
একপর্যায়ে রাহিম বিষয়টি বাবাকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আলামিন তাকে গলাটিপে হত্যা করে। পরে ঘটনাস্থলেই মরদেহ মাটি চাপা দেওয়া হয় এবং আলামত নষ্ট করতে তার জ্যাকেট আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার ভোরে জয়দেবপুর থানাধীন মির্জাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলামিন হোসেন (২৩) ও আশিক আহমেদ (২০) কে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদ্বয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, নিখোঁজের পর থেকেই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।