শিরোনাম

সিলেট, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : প্রতিবছরের মতো এবারও শত বছরের সাংবাদিকদের স্মারক প্রতিষ্ঠান সিলেট প্রেসক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিল গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ক্লাব ভবনে আয়োজিত ইফতারে সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতাসহ রাজনীতিক, পেশাজীবি ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
ইফতার পূর্ব আলোচনায় বক্তারা অতীতে সিলেটের অনেক সামাজিক সমস্যার সমাধানে সিলেট প্রেসক্লাবের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, সামাজিক অঙ্গণে সৌহার্দ ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আগামীতেও এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূরের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও ওকাব-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট এম মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের বাংলাদেশ অধ্যায়ের সভাপতি পারভিন এফ চৌধুরী, এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রকিব, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটে নিযুক্ত সহকারী ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ রায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম ও সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি সুন্দর সমাজ গঠনে রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম।
রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের ভূমিকার তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সমাজকে চারটি ডাইমেনশন থেকে দেখতে হয়। রাজনীতিকরা যদি একচোখা হন, তবে সাধারণ মানুষ লাভবান হয় না। একইভাবে সাংবাদিকরা যদি সব দিক বিবেচনা না করে খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরেন, তবে সমাজে বিভাজন ও সংঘাত তৈরি হয়।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, সত্য প্রকাশে আপসহীন থাকতে হবে।
‘সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার সাহস অর্জন করতে হবে। কোনো পক্ষ বা শক্তিকে ভয় না করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনই হবে পেশাদারিত্বের পরিচয়।’
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি সিলেট-ম্যানচেষ্টার ফ্লাইট বন্ধ হবে না মর্মে তার বক্তব্য পুনরুল্লেখ করেন। সিলেটের বেশ কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সেই সমস্যাগুলো সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাধানের পথে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ শুরুর পথে যে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা ছিল, জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান হয়েছে। শিগগিরই এই প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া সিলেটে বিমানের ফ্লাইট সংক্রান্ত সমস্যা ও দ্রুত দূরীকরণের আশ্বাস দেন তিনি।
সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, আমরা চাই সিলেট-ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন হবে।
আমরা চাই বিমানের ভাড়া যতটুকু পর্যন্ত কমিয়ে আনা যায় সেভাবে আনা হোক। ম্যানচেস্টার ফ্লাইট অবশ্যই বন্ধ হবে না বরং আমরা চাইবার্মিংহামের ফ্লাইটটি চালু করা হোক।
সিলেটের উন্নয়নের জন্য মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির সঠিক পদক্ষেপ নেবেন। আমরা তথা সিলেটবাসী আপনাদের সঙ্গে থাকবে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সমাজ প্রগতিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট প্রেসক্লাবের সাথে নিজের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়ে আলোকপাত করেন তিনি। সিসিকের প্রশাসকের দায়িত্ব নেয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকসহ সব মহলের সহযোগিতা চাই। সবার প্রচেষ্টায় আমরা ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি গড়তে চাই।
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট পুলিশ সুপার কাজী আখতারুল আলম, সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপার্সন এমএস সেকিল চৌধুরী, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বারের সাবেক সভাপতি ও প্রেসক্লাবের আইন উপদেষ্টা এমাদ উল্যাহ শহিদুল ইসলাম, শাবিপ্রবি’র অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ, ডিজিএফআই’র উপ পরিচালক আবু সাদাত মো. সায়েম, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ, যমুনা অয়েল কোম্পানির পরিচালক সালেহ আহমদ খসরু, সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, ভারতীয় হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি রাজেশ ভাটিয়া, আটাব-এর সাবেক সভাপতি রেজওয়ান আহমদ, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমদ, বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার পুলিন রায়, জেলা বিএনপি নেতা আজমল বক্স সাদেক, শেখ ফারুক আহমদ, জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী কলেজের অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান প্রমুখ।