শিরোনাম

ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং বিশ্বায়নের যুগে বহুভাষিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষার মূল প্রেরণা।
তিনি বলেন, ইউনেস্কোর স্বীকৃতির ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে, যা বাঙালি জাতির জন্য এক অনন্য গৌরবের বিষয়।
বাংলা ভাষাকে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ভাষা হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ভাষার সাহিত্য ও ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে মর্যাদাপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রথম যে সম্মান এনে দিয়েছিলেন, তা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে।
মন্ত্রী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সময় পর পূর্ণাঙ্গ কাজ শুরু করলেও এর অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা ধীর। বর্তমানে নির্ধারিত ১৪টি ভাষার মধ্যে মাত্র ৪টি ভাষার কাজ চলছে।
মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে আমাদের আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
বহুভাষিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ভাষা মানেই পরিচয়, ভাষা মানেই ইতিহাস এবং ভাষা মানেই মর্যাদা। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও জ্ঞান বিনিময়ের জন্য অন্যান্য ভাষার চর্চা জরুরি হলেও নিজের মাতৃভাষার ভিত্তি শক্তিশালী করাই প্রথম শর্ত।’
তিনি প্রয়াত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল মালেক এবং কবি আব্দুল হাই শিকদারের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘বাংলা ভাষা আমাদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের ভাষা, যার কোনো বিকল্প নেই।’
মন্ত্রী জানান, ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী লিংগুইস্টিক অলিম্পিয়াডে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের হেড অব কমিউনিকেশন নরিহিদে ফুরুকাওয়া।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন অধ্যাপক আবুল মনসুর মুহম্মদ আবু মুসা।