বাসস
  ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৫

দিনাজপুরে সুলভ মূল্যে গরুর মাংস, মুরগি ও ডিম বিক্রি কার্যক্রম শুরু    

ছবি: বাসস

দিনাজপুর, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জেলায় সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। 

আজ বিকেলে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।  রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বস্তি দিতে প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসন এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। 

দিনাজপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থানে এই সুলভ মূল্যের স্টোর পরিচালনা করা হচ্ছে। এই দুটি স্টোর থেকে পুরো রমজান মাসব্যাপী সুলভ মূল্যো গরুর মাংস, মুরগী ও ডিম বিক্রি কার্যক্রম চলমান থাকবে। 

আজ রমজানের প্রথম দিন দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে এবং শহরের কালিতলা নিউ মার্কেটের সামনে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

রমজানের প্রথম দিন সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। 

সুলভ মূল্যের এই বিক্রয় কেন্দ্রে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও পাকিস্তানি মুরগি প্রতি কেজি ২৭৫ টাকা এবং প্রতিটি ডিম মাত্র ৮ টাকা দরে ক্রেতারা সংগ্রহ করতে পারছেন। 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই স্টলগুলোতে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নির্ধারিত দামে পণ্য সংগ্রহ করছেন। তবে বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২ কেজি গরুর মাংস, ২টি মুরগি এবং ৩ হালি বা ১২টি ডিম কিনতে পারবেন। এর অতিরিক্ত পণ্য বিক্রির সুযোগ না থাকায় শৃঙ্খলা বজায় থাকছে বলে জানানো হয়েছে। ক্রেতারা জানান, বাজারে বর্তমানে মাংস ও ডিমের দাম জনসাধারণের ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। 

প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষ ন্যায্যমূল্যে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। রমজান মাস জুড়ে এ ধরনের তদারকি ও সুলভ মূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলমান থাকলে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও বড় সহায়ক হবে বলে মনে করেন এলাকার সাধারণ মানুষ। 

জেলা প্রশাসন জানায়, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে তাদের বিশেষ টিম পুরো মাস মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাবে।