শিরোনাম

ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার তার মেয়াদে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যদিও কাঠামোগত ও নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘১০০ এর মধ্যে আমি নিজেকে প্রায় ৭০-হয়ত ৭০ বা ৮০ নম্বর দেব। যদি ৮০ হয়, তবে বলতে পারি আমরা অন্তত কাজ শুরু করেছি। আমরা জনগণের স্বার্থে কর্মসূচি নিয়েছি এবং আমাদের কোনো গোপন উদ্দেশ্য ছিল না।’
বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আজ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, অনেক পরিকল্পিত উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হওয়ায় তিনি নিজেকে পূর্ণ নম্বর দিতে চান না।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকার বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হলেও অনেকগুলো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সম্পন্ন করা যায়নি।
তিনি বলেন, প্রত্যাশা ছিল। আমাদের যেসব পরিকল্পনা ছিল, তার কিছু কিছু বাস্তবায়ন করা যায়নি। আর যেগুলো শুরু করেছি সেগুলোকেও পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। এই বাস্তবতার কারণে তিনি পূর্ণ নম্বর দাবি করতে পারেননি।
অর্থ উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, ধারাবাহিক বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রকৃত কাজটি ছিল বিশেষ করে নীতি বিভাগগুলোতে গভীর নীতিগত সংস্কার শুরু করা।
কর সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, একটি সমন্বিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সংস্কারের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, আমরা একটি করনীতি প্রতিবেদন রেখে যাচ্ছি। এটি ভবিষ্যতে একটি নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়েছে।
তিনি স্বীকার করেন, বিভিন্ন মহল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও স্বাধীনতা দেওয়ার দাবি উঠেছে, তবে বিষয়টি জটিল।
আমরা এটি নিয়ে ব্যাপকভাবে চিন্তা করেছি। এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয় এবং এতে আইনি ও পরিচালনাগত দিক জড়িত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশেই প্রতিষ্ঠানটির কাঠামো ও কর্তৃত্ব নির্ধারিত রয়েছে এবং প্রশ্নটি শুধু গভর্নর বা মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা নিয়ে নয়, বরং কাঠামোর মধ্যে কতটা কার্যকর স্বাধীনতা রয়েছে সেটিই মূল বিষয়।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের পরিবর্তে জনস্বার্থ দ্বারা পরিচালিত। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়ে কেউ কেউ কিছু বিষয় এড়িয়ে যেতে পারেন, কিন্তু অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় এসব বিষয় এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
অর্থ উপদেষ্টা পুনরায় উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার শুরু করতে পারায় তিনি সন্তুষ্ট হলেও অসম্পূর্ণ কাজ ও পূরণ না হওয়া প্রত্যাশার কারণে ১০০-এর কম নম্বরই যুক্তিসঙ্গত।