শিরোনাম

ঢাকা, ২ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : অমর একুশে বইমেলার ৫ম দিনে আজ নতুন বই এসেছে ৪০ টি।
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে ‘সার্ধশত জন্মবর্ষ : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, হামীম কামরুল হক। আলোচনায় অংশ নেন পারভেজ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সফিকুন্নবী সামাদী।
হামীম কামরুল হক বলেন, বাংলা সাহিত্যের এক কীর্তিস্তম্ভের নাম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তার উপন্যাসগুলোর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নারীজীবনের মুক্তি ও বৃহত্তর সমাজের কল্যাণ সাধন। পাঠকের চাহিদা পূরণ করে তিনি একের পর এক উপন্যাস লিখে গেছেন।
তিনি আরো বলেন, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দেশি—বিদেশি সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বহু বিষয়ে তিনি নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করেছিলেন।
পড়াশোনার মাধ্যমেই ইতিহাস, মনস্তত্ত্ব, সমাজ ও দর্শনের হালনাগাদ ও খোঁজখবর রাখতেন। উপন্যাসে বাস্তবতার যে নিগূঢ় ও জটিল উন্মোচন ঘটে, সেখানে তাঁর উপন্যাসে বাস্তব অনেকটা সরল হলেও তাৎপর্যহীন নয়।
তিনি জানান, শরৎচন্দ্রের চেতনায় একটি ভক্তিবাদী বিদ্রোহ ছিল, তিনি উচ্চবর্ণের বা উচ্চশ্রেণির চাপিয়ে দেওয়া অনেক কিছুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন; এর পেছনে রয়েছে জাতি—ধর্ম—বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের প্রতি তাঁর দরদ ও শ্রদ্ধাবোধ।
পারভেজ হোসেন বলেন, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শরৎচন্দ্রের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। তার রচিত উপন্যাস পাঠের ব্যাপকতা আছে বলেই তিনি এত বড় ঔপন্যাসিক হয়ে উঠেছিলেন। তার উপন্যাসে জীবনের মহত্ত্ব যেমন আছে, তেমনি আছে অন্তর্বেদনা, নর—নারীর পারস্পরিক অনুভূতির টানাপড়েন ও সমাজের নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদ।
তিনি অত্যন্ত সাবলীল ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে নারীর সামাজিক ও পারিবারিক অবস্থান ও তাদের মর্মবেদনা চিত্রায়িত করেছেন।
সফিকুন্নবী সামাদী বলেন, বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের অবদানকে অস্বীকার করা প্রায় অসম্ভব। পরবর্তী অনেক বিখ্যাত লেখক—সাহিত্যিকই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শরৎচন্দ্রের কাছে ঋণী। উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি তৎকালীন ভারতবর্ষের রাজনীতি, অর্থনীতি, শোষণ ও সমস্যাগুলো নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও এজাজ ইউসুফী।
বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশিত হয়।
আগামীকাল ৩ মার্চ মঙ্গলবার মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে জন্মশতবর্ষ : তাজউদ্দীন আহমদ। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মহিউদ্দিন আহমদ। আলোচনায় অংশ নেবেন সাজ্জাদ সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।