বাসস
  ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৪০

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ সরাসরি শিপিং ও হালাল খাদ্য সহযোগিতায় আগ্রহী

ছবি : বাসস

ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ আজ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশেষভাবে এতে সরাসরি শিপিং যোগাযোগ এবং হালাল খাদ্য শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাণিজ্য, পরিবহন দক্ষতা ও টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের পরিবহন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে উভয় পক্ষ অর্থনৈতিক ও পরিবহন যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। এসময় তারা পরিবহন যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজিকরণ, লজিস্টিক খরচ হ্রাস, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।

সরাসরি শিপিং সেবা চালু হলে পরিবহন সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও কার্যকর হবে বলে তারা একমত হন।

বৈঠকে আলোচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সরাসরি শিপিং সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। হাইকমিশনার এ পর্যন্ত অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং দ্রুততম সময়ে এমওইউ চূড়ান্ত করার প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সরাসরি শিপিং লজিস্টিকস-এ স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়াবে এবং দুই দেশের রপ্তানিকারক, আমদানিকারক ও ভোক্তাদের উপকারে আসবে।

বৈঠকে হালাল খাদ্য শিল্পে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়। ড. নাজমুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হালাল খাদ্যপণ্য- প্রক্রিয়াকরণকৃত খাদ্য, পানীয় ও প্যাকেটজাত সামগ্রী সরবরাহের সক্ষমতা রাখে। তিনি বিনিয়োগ, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মান নিয়ন্ত্রণে যৌথ উদ্যোগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী সরাসরি শিপিং উদ্যোগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, এটি কার্গো পরিবহন সহজ করবে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াবে এবং আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে। তিনি মালদ্বীপের বিমানবন্দর ও সামুদ্রিক অবকাঠামো কার্গো পরিবহনে ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে মালদ্বীপের মন্ত্রী অতীতে সংকটের সময় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে বাংলাদেশের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এটিকে দুই দেশের দৃঢ় বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন।

হাইকমিশনার আরও জানান, মালদ্বীপের জাতীয় বিমান সংস্থা মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্স ২০২৬ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ রুটে ফ্লাইট চালু করার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি দুই দেশের সংযোগ ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।