শিরোনাম

খুলনা, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী আর্ককেইউ ডিগ্রি শো-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর একাডেমিক ভবনে স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের সম্মেলন কক্ষ উঠানে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, যেকোনো একাডেমিক ডিসিপ্লিনের সাফল্য নির্ভর করে তার আউটকামের ওপর। গবেষণাভিত্তিক কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সক্ষমতা প্রকাশ করতে হবে এবং সেই কাজ হতে হবে বাস্তবমুখী ও দৃশ্যমান।
তিনি ইনডিজেনাস ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার এবং স্বল্প ব্যয়ে টেকসই ও সৃজনশীল স্থাপত্যকর্মের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একই সঙ্গে থিমেটিক ধারণা তৈরি করে মাল্টিডিসিপ্লিনারি কোলাবরেশনের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ডিগ্রি শো শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখানে তাঁদের গবেষণা, চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতার সমন্বিত প্রকাশ ঘটে। সমন্বিত জ্ঞান ও গবেষণার মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিন আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান বলেন, স্থাপত্য একটি সৃজনশীল ও সময়োপযোগী বিষয়। কালের পরিবর্তনের সঙ্গে পড়াশোনা, তথ্য ও প্রযুক্তির সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রতিযোগিতাও বেড়েছে বহুগুণ। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পেশাদারিত্ব, সৃজনশীলতা ও ধারাবাহিক পরিশ্রম অপরিহার্য।
তিনি বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ও গ্র্যাজুয়েটরা তাদের দক্ষতা ও কাজের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, স্থাপত্যের পরিসর অত্যন্ত বিস্তৃত। এটি কেবল নকশা বা নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং মানুষের জীবনবোধ, চিন্তাধারা ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিন নগর ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. রুমানা আসাদ। এছাড়া বক্তব্য দেন সহযোগী অধ্যাপক গৌরী শঙ্কর রায়। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ’২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী কান্তা অনুভূতি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের বেস্ট থিসিস অ্যাওয়ার্ড-এর জন্য তিনজন শিক্ষার্থী এবং সার্টিফিকেট রিকগনিশন-এর জন্য দুইজন শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। নাম ঘোষণা করেন সহযোগী অধ্যাপক এস এম নাজিমুদ্দিন ও সহযোগী অধ্যাপক শিবু প্রসাদ বসু।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা আর্ককেইউ ডিগ্রি শো-২০২৬ এ প্রদর্শিত ৪১ জন শিক্ষার্থীর থিসিসভিত্তিক বিভিন্ন স্থাপত্যকর্মের মডেল ঘুরে দেখেন। এ সময় ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।