শিরোনাম

ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ডাকের ডিজিটাল রূপান্তর, ই-কমার্স কমপ্লায়েন্স তৈরি, আধুনিক ঠিকানা ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ যেকোনো ধরনের মাইগ্রেশনজনিত ঠিকানা ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত উপাত্তের নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব তৈরিতে প্রণীত ‘ডাকসেবা অধ্যাদেশ-২০২৬’ আজ চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আইনটিকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে, যা ‘ডাকসেবা অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে এবং পূর্ববর্তী ‘দ্য পোস্ট অফিস অ্যাক্ট, ১৮৯৮’-কে প্রতিস্থাপন করবে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ডাক, কুরিয়ার বা পার্সেল ব্যবসা পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ প্রশাসনিক জরিমানা পূর্বের ৫০ হাজার টাকা (বা পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে ২ লাখ টাকা) থেকে বাড়িয়ে অনূর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া, প্রচলিত ডাকটিকিটের পাশাপাশি ডিজিটাল ডাকটিকিট বা ই-স্ট্যাম্পিং চালু করা হয়েছে। গ্রাহক অনলাইনে বিল পরিশোধ করে সুরক্ষিত ডিজিটাল কিউআর কোড বা বারকোড পাবেন, যা স্বতন্ত্র ছাপানো মাধ্যম বা যে কোনো ডিভাইসে প্রদর্শিত হলেও বৈধ ডাকটিকিটের সমতুল্য আইনি স্বীকৃতি পাবে।
নতুন আইনে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর অধীন সকল নীতি ও অধিকার প্রযোজ্য করা হয়েছে। অপারেটরদের গ্রাহকের তথ্য শুধু সেবা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা, অপ্রয়োজনীয় তথ্য মুছে ফেলা এবং সাইবার আক্রমণের শিকার হওয়া থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রযুক্তিগত ও সাংগঠনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা (যেমন এনক্রিপশন) গ্রহণের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, একটি ডিজিটাল সেন্ট্রাল লজিস্টিক্স ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং সকল বাণিজ্যিক অপারেটরের আন্তঃপরিচালন নিশ্চিতকরণের বিধান করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা সহজে ই-কমার্সের ট্র্যাকিং তথ্য পেতে পারেন।
পরিবর্তিত ডাক সেবা অধ্যাদেশে ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে সকল নাগরিকের ঠিকানাসমূহকে এমনভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে, যাতে ডিজিটাল অ্যাড্রেস তৈরি হবার পাশাপাশি ঠিকানাকেন্দ্রিক ফ্যামিলি-ট্রি ম্যাপিংসহ জিও-ফেন্সিং নির্ধারণ করা হবে। এসব ডেটার স্থায়ী লাইফ-সাইকেল নির্ধারণ করে ডিজিটাল আর্কাইভ করা হবে।
অনুরূপ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা এমনভাবে পরিচালিত হবে, যাতে জলবায়ু পরিবর্তন বা নদীভাঙনসহ অন্যান্য মাইগ্রেশনজনিত কারণে ঠিকানা হারানোর প্রেক্ষিতে (যেমন: চর বিলীন হওয়া ও জেগে ওঠা কিংবা ভূমি পুনরুদ্ধার ইত্যাদি) পুনরায় যথাযথভাবে ঠিকানা চিহ্নিত ও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা যাবে।