শিরোনাম

ময়মনসিংহ, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় ৫০তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২৫ এর প্রিলিমিনারি টেস্ট বিষয়ক প্রস্তুতিমূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন এবং বিপিএসসি আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. শরীফ হোসেন। তিনি বলেন, বিপিএসসি তাদের নির্ধারিত মিশন ও ভিশন বাস্তবায়নে সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আসন্ন ৩০ জানুয়ারির প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির চেষ্টা করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি ও পর্যবেক্ষণের সময় এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে এবং যেকোনো অনিয়ম তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করতে হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।
আগামীকাল শুক্রবার ময়মনসিংহের বিপিএসসি আঞ্চলিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ১৩টি কেন্দ্রের কেন্দ্রপ্রধান, হল প্রধান ও আহ্বায়ক, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।
ময়মনসিংহ বিপিএসসি আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কামরুন্নাহার শেফার সঞ্চালনায় সেমিনারের শুরুতে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট নিয়ম-কানুন নিয়ে একটি তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, ময়মনসিংহের ১৩টি কেন্দ্রে মোট ২৩ হাজার ৮৪৪ জন পরীক্ষার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজির প্রতিনিধি জানান, প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজন করতে বদ্ধপরিকর। জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে প্রদত্ত সকল নির্দেশনা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অনুসরণ করতে হবে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং যেকোনো ধরনের জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধে পুলিশ সদা তৎপর থাকবে। একই সঙ্গে যানজট এড়াতে পরীক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোর আহ্বান জানান তিনি।
সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে মেডিক্যাল অফিসার ও একজন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট দায়িত্ব পালন করবেন। জরুরি প্রয়োজনে পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে।
সমাপনী বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী বলেন, কিছু প্রেসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পূর্ববর্তী প্রশ্নের ধরণ অনুসরণ করে নতুনভাবে প্রশ্ন প্রণয়ন করা হতে পারে। এ কারণে প্রশ্নফাঁস ও গুজব রোধে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা ও মোবাইল কোর্টকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। আন্তঃজেলা থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে ও সময়মতো নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন, সে জন্য পরীক্ষা চলাকালীন সড়কগুলো যানজটমুক্ত রাখার নির্দেশ দেন তিনি।