শিরোনাম

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার (এনডিসি)’র ক্লাউড ফ্যাসিলিটির বিভিন্ন কম্পোনেন্টের সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এনডিসি’র ভৌত অবকাঠামো, স্টোরেজ, মেমোরি ও প্রসেসিং পাওয়ার, সিকিউরিটি ও মনিটরিং— এই ৫টি মূল কম্পোনেন্টের সক্ষমতা কয়েকগুণ বেশি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) কর্তৃক পরিচালিত টায়ার-৩ ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার (এনডিসি) বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বহুবিধ আইটি সেবা প্রদান করছে।
এ সব সেবার মধ্যে রয়েছে— কোলোকেশন, ওয়েব ও অ্যাপ্লিকেশন হোস্টিং, ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার (ভিপিএস), সরকারি ই-মেইল, ডাটাবেজ ও ডিএনএস প্রভৃতি।
জাতীয় ডাটা সেন্টারে ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো সরকারি ক্লাউড সেবা চালু করা হলেও সে সময়ে মাত্র ১১টি ক্যাটাগরিতে ক্লাউড সেবা প্রদান করা হতো।
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, অ্যাপ্লিকেশন আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুরু থেকেই জাতীয় ডাটা সেন্টারের ক্লাউড সেবা সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা, পারফরম্যান্স মনিটরিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইত্যাদি অগ্রাধিকারমূলক খাতে আরও ১৯টি নতুন ক্লাউড সেবা চালু করা হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সেবাসমূহ হলো— সিসিই, বিএমএস, ওবিএস ৩.০, এইচএসএস, ডিএসসি, সিএফডব্লিউ ২.০, সিবিএইচ, ডিবিএএস, এনডিআর, এওএম, এপিএম, ডাটাবেজ ও পিজিএসকিউএল ইত্যাদি।
বর্তমানে জাতীয় ডাটা সেন্টারের আওতায় পরিচালিত বিদ্যমান ডিজাস্টার রিকভারি ডাটা সেন্টারের সক্ষমতা বাস্তব চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে একটি সম্পূর্ণ নতুন, তিনতলা বিশিষ্ট টায়ার-৩ সার্টিফায়েড পূর্ণাঙ্গ ডিজাস্টার রিকভারি ডাটা সেন্টার নির্মাণ কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এ ডাটা সেন্টারে উচ্চ বিদ্যুৎ সক্ষমতাসম্পন্ন ২০০টিরও বেশি আইটি কেবিনেট স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে কম্পিউটিং ওয়ার্কলোডের পাশাপাশি এআই ওয়ার্কলোডও হোস্ট করা যাবে।
বর্তমানে এ সক্ষমতা মাত্র ১৬টি সাধারণ বিদ্যুৎ সক্ষমতাসম্পন্ন রেক।
এই ডিআর ডাটা সেন্টারটির নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ বর্তমানে দিনরাত চলমান রয়েছে। ক্লাউড ফ্যাসিলিটির প্রয়োজনীয় সার্ভার, যন্ত্রপাতি ও সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট ইতোমধ্যেই আসতে শুরু করেছে।
আশা করা হচ্ছে, আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই ডাটা সেন্টার ও সংশ্লিষ্ট ক্লাউড ফ্যাসিলিটি পূর্ণাঙ্গভাবে অপারেশনে যাবে।
সরকারের ৬০০টিরও বেশি সংস্থার ই-মেইল সিস্টেম এবং ক্লাউড স্টোরেজ/ড্রাইভ হোস্টিং সেবা প্রদানের লক্ষ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামো হিসেবে নিউট্যানিক্স প্রাইভেট ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্থাপন করা হয়েছে।
এই অবকাঠামোর আওতায় আধুনিক জিপিইউ সেবাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সরকারি বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের এআই ওয়ার্কলোড পরিচালনার পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই অ্যান্ড লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ভিত্তিক উদ্ভাবনী সেবা চালুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সরকারি ডিজিটাল সেবায় ব্যবহৃত অবকাঠামো ও প্ল্যাটফর্ম যেন কোনোভাবেই ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশনের পারফরম্যান্সে বটলনেক সৃষ্টি না করে, সে লক্ষ্যেই আধুনিক হোস্টিং অবকাঠামো ও প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সরকারি ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশনসমূহ আধুনিকায়ন ও সফটওয়্যার জীবনচক্র ব্যবস্থাপনায় ডেইভওপিএস/ডিইভিসিইসিওপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অ্যাপ্লিকেশন মর্ডানাইজেশন কার্যক্রমের জন্য অবকাঠামোগত পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে জাতীয় ডাটা সেন্টারে প্লাটফরম এ্যাজ এ সার্ভিস (পিএএএস) হিসেবে রেড হ্যাট ওপেনশিফট কন্টেইনার প্লাটফর্ম চালু করা হয়েছে।
দেশে ট্রু-ডিজিটাইজেশন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ডাটা গভর্নেন্স, ডাটা ইন্টারঅপারেবিলিটি, নাগরিক সেবা, ডি-নথিসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার আধুনিকায়নের ফলে সরকারি ক্লাউড প্ল্যাটফর্মে সেবা গ্রহণের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে জাতীয় ডাটা সেন্টারে ব্যবহৃত হুয়াওয়েই ক্লাউড স্টেক-এর কম্পিউটিং সক্ষমতা, বিশেষত স্টোরেজ ও মেমোরি এবং সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
এই সকল কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে ক্লাউড অবকাঠামোর প্রসেসিং ক্ষমতা প্রায় ৪০ হাজার ০০০ ভার্চুয়াল কোর এবং মেমোরি সক্ষমতা ১৭০ টেরাবাইট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় ডাটা সেন্টারে প্রায় ৪০ পেটাফ্লপ জিপিইউ সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বাংলা লার্জ অ্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) উন্নয়নে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এর পাশাপাশি প্রায় ৮ পেটাবাইট স্টোরেজ সক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ডাটার ব্যাকআপের জন্য ফিজিক্যাল আইসোলেশন সুবিধাসহ এন্টি-র্যানসমওয়ার স্টোরেজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ছোট ও মাঝারি আকারের এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য এনভিআইডিআইএ ভোল্টা আর্কিটেকচার টেন্সর কোর জিপিইউ ভিত্তিক ক্লাউড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট প্লাটফর্ম স্থাপন করা হয়েছে।
ডাটা সেন্টার ও ডিজাস্টার রিকভারি ডাটা সেন্টারে মনিটরিং ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা ও ঘাটতি চিহ্নিত হওয়ার পর নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মনিটরিং সফটওয়্যার উন্নয়ন করা হয়েছে এবং ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক, সিকিউরিটি, ও সার্ভিস মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন করে জাতীয় ডাটা সেন্টারের মনিটরিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি নিরাপত্তা মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও আধুনিক করা হয়েছে।
উল্লিখিত সেবাসমূহের প্রবর্তন ও সম্প্রসারণ দেশের সামগ্রিক ডিজিটাইজেশন কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং সরকারি সংস্থাগুলোকে উন্নত নিরাপত্তা, আধুনিক ডাটাবেজ ও শক্তিশালী ক্লাউড অবকাঠামোর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন, কার্যকর ও নাগরিকবান্ধব সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।