বাসস
  ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৫১

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডিজিটাল সিটিজেনশিপ ট্রেনিং’ অনুষ্ঠিত

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল সিটিজেনশিপ অ্যান্ড মিসইনফরমেশন রেজিলিয়েন্স ট্রেনিং’ অনুষ্ঠিত। ছবি: বাসস

রাজশাহী, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল সিটিজেনশিপ অ্যান্ড মিসইনফরমেশন রেজিলিয়েন্স ট্রেনিং’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ (জেসিএমএস) বিভাগ আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে ৭০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধে অংশগ্রহণকারীরা পাঁচটি কমিউনিটি অ্যাকশন প্রজেক্ট (সিএপিএস) বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইয়ুথ কানেক্ট প্রকল্প এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সহায়তায় প্রশিক্ষণটি দুই ধাপে আয়োজন করা হয়।

প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হয় ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি, এরপর ১৯ জানুয়ারি অনলাইন সেশন হয়। ২২ জানুয়ারি শিক্ষার্থীরা তাদের কমিউনিটি অ্যাকশন প্রজেক্টের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল সিটিজেনশিপ, অনলাইন আচরণ, তথ্য যাচাই কৌশল, ভুয়া সংবাদ শনাক্তকরণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পান।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী মেহেরুন নেসা বলেন, এখান থেকে আমি কীভাবে তথ্য ও মতামতের মধ্যে পার্থক্য করতে হয়, তা শিখেছি। আমি আরো শিখেছি কীভাবে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে হয়।

আরেক শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য মণ্ডল বলেন, আমি জানতাম না যে— সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের সময় কিছু নীতি ও মূল্যবোধ অনুসরণ করা উচিত। আমি এই প্রশিক্ষণ থেকে তা শিখেছি।

জেসিএমএস বিভাগের শিক্ষক মুহাম্মদ রাকিব হোসাইন বলেন, অংশগ্রহণকারীদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করতে পারে। এটি একটি সুস্থ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

জেসিএমএস সমন্বয়ক শাতিল সিরাজ বলেন, সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে এবং সাধারণ নাগরিক হিসেবেও কোনো তথ্যকে সরাসরি গ্রহণ না করে তা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে কোন সংবাদ সত্য এবং কোন তথ্য বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, তা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশিক্ষণে ফ্যাক্টওয়াচের ফ্যাক্টচেকার রিদওয়ান ইসলাম অংশ নেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের যেমন কিছু দায়িত্ব থাকে, তেমনি ডিজিটাল নাগরিকদেরও ডিজিটাল জগতে দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। এই প্রশিক্ষণ মূলত কোন তথ্য বিশ্বাসযোগ্য এবং কোন তথ্য শেয়ার করা উচিত, সে ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছে।

ইউল্যাবের সিনিয়র লেকচারার মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল সাক্ষরতা ছাড়া আজকের প্রজন্ম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্র-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। এই ক্ষেত্রে সচেতনতা অনলাইনে সহনশীলতা বৃদ্ধিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল সিটিজেনশিপ অ্যান্ড মিসইনফরমেশন রেজিলিয়েন্স ট্রেনিং প্রকল্পের আওতায় দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীকে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের মাধ্যমে একটি ‘ইনফরমেশন হাব’ গড়ে তোলা হবে, যা গুজবের বিস্তার রোধে কাজ করবে এবং অংশগ্রহণকারীরা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবেন।