শিরোনাম

কুড়িগ্রাম, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : সারাদেশে শীত কিছুটা কম অনুভ’ত হলেও হিমেল বাতাসে উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জেলায় প্রায় ১৬ লাখ ৪৮ হাজার দরিদ্র মানুষের শীতে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বিশেষ করে জেলার ২৬৯টি চরাঞ্চলে উন্মুক্ত বাতাসের সরাসরি আঘাতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
নদীবেষ্টিত এসব চরাঞ্চলে বসবাসরত প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ শীতের চরম কষ্টে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, মূল ভূখণ্ডের তুলনায় চরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বাতাসের আর্দ্রতা ১০০ শতাংশ থাকায় শীতের অনুভূত বেশি হচ্ছে।
রাজারহাট উপজেলার নাজিম খান ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী হাসারপাড় গ্রামে শীতে মানুষের কষ্ট সরেজমিনে দেখা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নজির হোসেন জানান, নদীর পাড়ে প্রায় তিন হাজার মানুষের বসবাস হলেও এখন পর্যন্ত কোনো শীতবস্ত্র তারা পাননি। এলাকাবাসীর অধিকাংশই মৎস্যজীবী হওয়ায় জীবিকার সংকটও তীব্র হয়েছে শীতে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিস্তা নদীতে পর্যাপ্ত পানি নেই এবং মাছের পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। মাছ কমে যাওয়ায় মৎস্যজীবী পরিবারগুলো কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এলাকার যোগিনী, পরান বাবু, আব্দুল সাত্তার ও পুষ্প রানী জানান, নদীতীরবর্তী এলাকায় বসবাসের কারণে রাত ও ভোরে হিমেল বাতাসে শরীর জমে যায়। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, বর্তমানে নতুন করে সরকারি শীতবস্ত্রের কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এর আগে জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ২৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।