শিরোনাম

সুলতান মাহমুদ
নড়াইল, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): নড়াইলে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের চাকই গ্রামে হাজার মানুষের ঢল নামে। পৌষ মাসের শেষ দিনে চাকই গ্রামবাসীর উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এতো মানুষের উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।
বিছালী গ্রামের রেজাউল ইসলাম জসিম বাসসকে বলেন, আবহমান গ্রামবাংলার ইতিহাস ঐতিহ্যের অনেক কিছুই কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে। এসব ঐতিহ্যবাহী খেলার মধ্যে একসময় গ্রামবাংলার অন্যতম ঐতিহ্য ছিল ঘোড়ার দৌড় (ঘোড়দৌড়) প্রতিযোগিতা। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে এ প্রতিযোগিতা। তবে এখনও নড়াইলের চাকই এলাকায় প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
ঘোড়দৌড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে পৌষমেলা। মেলার দোকানগুলোতে হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। তবে এসবের মধ্যে আগত উৎসুক জনতা ঘোড় দৌড়কেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
এ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে সাওয়াররা ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। তাদের পিঠে বসিয়ে টগবগিয়ে খুরের আওয়াজ তুলে দৌড়ে থাকে রঙ-বেরঙের বিভিন্ন প্রকারের ঘোড়া। এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও মেলা উপভোগ করতে নড়াইল জেলাসহ পার্শ্ববর্তী যশোর ও খুলনা জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ আসে। এছাড়া শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ নানা শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষেরও ভিড় হয়। অনেকে আবার ঘোড়াদৌড় দেখতে আগের দিনই স্থানীয় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে এসে অবস্থান করেন।
এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখার জন্য সকাল থেকেই সবাই মাঠে জড়ো হতে থাকেন। উৎসবমুখর পরিবেশে ঘোড়ার দৌড় ও সওয়ারিদের রণকৌশল উপভোগ করতে মাঠের চারপাশে জড়ো হন তারা। খেলা শুরু হলে মাঠের চারদিকে দর্শকের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। দর্শকের মুহুর্মুহু করতালি আর চিৎকারে অন্যরকম আনন্দ বয়ে যায়। এ যেনো চিরায়ত বাঙালির চিরচেনা মিলনমেলা। এ বছর ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ১২টি ঘোড়া অংশ নেয়।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও পৌষমেলা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের মতো এ বছরও ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা ও ৩ দিনব্যাপী পৌষমেলার আয়োজন করা হয়েছে। মূলত গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে ও বিনোদনের উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন করা হয়। ঘোড়দৌড় ছাড়াও আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জারিগান ও শুক্রবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। গ্রামীণ এ মেলা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে।
বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, মানুষকে বিনোদন দেয়ার জন্য এবং আমাদের গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য প্রতিবছর চাকই এলাকায় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও পৌষমেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটির সদস্য মোরাদ হোসেন শেখ বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন বয়সের প্রতিযোগীরা এতে অংশগ্রহণ করে। এ বছর সর্বাধিক দর্শকের উপস্থিতি ছিল।
যশোরের অভয়নগর থেকে ঘোড়দৌড় দেখতে আসা মুহিম বলেন, আমরা বন্ধুরা মিলে ঘোড়ার দৌড় দেখতে এসেছি। প্রত্যেক বছর এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকি। এ প্রতিযোগিতা হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেয়। ঘোড়দৌড় দেখতে অনেক ভালো লাগে। তাই সবাই মিলে এখানে আসা।