শিরোনাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৯তম প্রয়াণ দিবস পালিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
এ বছর প্রয়াণ দিবসের মূল ভাবনা নির্ধারিত ছিল ‘ছুটে যেতে যেতে থমকে দাঁড়ায় একজনা’। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সেলিম আল দীনের স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, নাট্যকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমীজনদেও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল।
দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবন থেকে নাট্যাচার্যের সমাধি প্রাঙ্গণ পর্যন্ত স্মরণযাত্রার আয়োজন করা হয়। এরপর সেলিম আল দীনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, ঢাকা থিয়েটার, আরশিনগর, শহীদ সমর থিয়েটার, স্বপ্নদলসহ বিভিন্ন নাট্যদল, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, নাট্যকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং সেলিম আল দীনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা নাটকে তার অসামান্য অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বেলা ১১টায় পুরাতন কলা ভবনের সেট ল্যাব কক্ষে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ‘সেলিম আল দীন ও বাংলা নাট্যের বিঔপনিবেশিক আত্মপরিচয়’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এতে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্ক এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নিজার আলোচক হিসেবে অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ খান।
নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার বাসসকে বলেন, হাজার বছরের বাংলা নাট্য-ঐতিহ্যের ভেতরে সেলিম আল দীন শিল্পের মৌলিক সত্তা খুঁজেছেন, আর শিল্পসৃষ্টির প্রক্রিয়ায় তিনি ক্রমাগত নাট্যরূপ ভেঙে ও পুনর্গঠন করেছেন। শিল্পকাঠামোর এই অবিরাম ভাঙা-গড়া প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তার নাটকে এই ভূখণ্ডের জীবন মহাকাব্যিক অনুরণনে উদ্ভাসিত হয়েছে।
তিনি বলেন, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৯তম প্রয়াণ দিবসে তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে। কারণ, বিভাগটি সেলিম আল দীনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই প্রতিষ্ঠিত।
তিনি আরো বলেন, সেলিম আল দীনের সৃজনশীল কর্ম ও শিল্প-দর্শন তার অনুপস্থিতিতেও অনুপ্রেরণার স্থায়ী উৎস হয়ে আছে।