শিরোনাম

।। শফিকুল ইসলাম বেবু ।।
কুড়িগ্রাম, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : কুড়িগ্রাম জেলায় হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও শীতের তীব্রতা বাড়ছে। বৃষ্টির মতো শিশিরে ভিজে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও ক্ষেতখামার। শীতের দাপটে দুর্ভোগে পড়েছেন নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষ।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আজ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি বলেন, চরাঞ্চলে শীতের অনুভূতি আরও বাড়বে।
কুড়িগ্রামের ১৬টি নদ-নদীর তীরবর্তী চর ও দ্বীপচর মিলিয়ে মোট ৪৬৯টি চরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বসবাস করে। দইখাওয়ার চর, চরগুজিমারি, দাগারকুটি, অষ্টমীর চর, সুখের বাতি, চর বিদ্যানন্দ, ঝুনকাচর, খেওয়ার চরসহ অধিকাংশ এলাকাতেই শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঝুনকার চরের ইউপি সদস্য ছাইফুর রহমান জানান, তার এলাকায় প্রায় চার হাজার মানুষের বসবাস। চারদিকে ব্রহ্মপুত্র নদী বেষ্টিত এই চরের মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে চরম সংকটে রয়েছে।
অষ্টআশি চরের বাসিন্দা ৬৯ বছরের আবুল হোসেন জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কষ্টও বাড়ছে। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে রাত কাটানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
একই চরের গৃহবধূ হাজেরা বেগম জানান, শীতের কারণে শিশুদের নিয়ে তারা বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দিনমজুর মোবারক আলী বলেন, শীতের প্রভাবে কাজ কমে যাওয়ায় পরিবারে খাবারের সংকটও দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু জানান, জেলার মোট ২৩ লাখ ২৯ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ৪৯ হাজার মানুষ দরিদ্র। দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাস করায় শীত মৌসুমে তাদের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়।
তিনি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, জেলা চর উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগা গোয়াইলপরী চরে ২০০টি এবং একই ইউনিয়নের দোয়ালিপাড়ায় ১০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া চিলমারী উপজেলার কড়াইবরিশাল চর, রাজারহাট উপজেলার হাসারপাড় এলাকা এবং ফুলবাড়ী উপজেলার পশ্চিম ধনিরাম চরে শীতবস্ত্র বিতরণের প্রস্তুতি রয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলার নয় উপজেলায় এ পর্যন্ত ২৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শীতের প্রকোপ বাড়লেও এখনো অনেক দরিদ্র ও চরাঞ্চলের মানুষের কাছে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র পৌঁছায়নি।