শিরোনাম

চট্টগ্রাম,১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত ডিসেম্বর মাসে ধারাবাহিকভাবে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে, আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন সমর্থিত রাঙ্গামাটি পৌরসভার সাবেক এক কমিশনার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন।
এখন পর্যন্ত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ।
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ এ সব তথ্য জানান।
এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ জানান, তদন্তে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। চক্রটির সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলো— কার্তিক দে, বিপ্লব বড়ুয়া, মনির হোসেন, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদ কবির হোসেন, মোহাম্মদ লোকমান ও মো. পারভেজ।
ডিআইজি আহসান হাবীব আরও বলেন, সাবেক কমিশনার ও রাউজানের একজন ব্যক্তির পরিকল্পনায় ১৫/১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ও বৌদ্ধদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বসতঘরে অগ্নিসংযোগ এর পরিকল্পনা করে।
পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও ভীতি সৃষ্টির লক্ষ্যে চক্রটি ষড়যন্ত্রমূলক ব্যানার টানিয়ে রাখে বলে জানান ডিআইজি।
ডিআইজি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে চারটি উসকানিমূলক ব্যানার, কেরোসিন তেলের দুটি কন্টিনার ও একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে তেলমাখা একটি লুঙ্গি ও একটি পুরোনো কালো শার্ট।
তিনি আরও জানান, এ ছাড়া গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও ঘটনাস্থলে যাতায়াতে ব্যবহৃত হওয়া একটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
অগ্নিসংযোগ, উসকানি ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের যে কোনো ধরনের অপচেষ্টাকে কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এ ধরনের অপরাধে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর রয়েছে।
এই অগ্নিসংযোগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, আর এর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের ভেতর সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা।
তিনি বলেন, আমরা তদন্তে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছি। এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি মনির হোসেন ইতোমধ্যে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ডিসেম্বর মাসে চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাতে একাধিক বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে কয়েকটি বসতঘর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।
এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে তৈরি ব্যানার উদ্ধার করা হয়।
ব্যানারগুলোতে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য লেখা ছিল। সেখানে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম ও অর্ধশতাধিক মোবাইল নম্বর উল্লেখ ছিল।
তথ্য-উপাত্ত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গত ২ জানুয়ারি প্রথমে রাঙ্গামাটি থেকে মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর ধারাবাহিক অভিযানে আরও ছয় জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।