শিরোনাম

ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে টেকসই ব্লু ইকোনমি নিয়ে দুই দিনব্যাপী আঞ্চলিক সংলাপ আজ ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শুরু হয়েছে।
শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে— জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন, মহেশখালী, নর্থ-ইস্ট ইন্ডিয়ান ওশেন রিজিওনাল ডায়ালগ অন সাস্টেইনেবল ব্লু ইকোনোমি, কানেক্টিভিটি অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ফর স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটস (এসআইডিএস), ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা) ও পিস অ্যান্ড পলিসি সল্যুশনস।
সংলাপে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশগ্রহণ করছেন।
১৩ ও ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় এ সংলাপে ব্লু ইকোনমি কৌশল, বন্দর ও শিপিং সংযোগ, অর্থায়ন ও প্রযুক্তি স্থানান্তর, জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, বিজ্ঞান-নীতি সংযোগ এবং টেকসই মৎস্য ও পর্যটন খাত নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার রোডম্যাপ নিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এ সংলাপের আলোচনাগুলো ‘ঢাকা স্টেটমেন্ট’ আকারে একটি আঞ্চলিক অবস্থানপত্রে রূপ পাবে, যা ভবিষ্যতের আন্তঃআঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংলাপে উপস্থাপিত হবে।
সংলাপে জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ওপিআরআই)-এর সভাপতি অধ্যাপক মিতসুতাকু মাকিনো বলেন, ভারত মহাসাগর, যা ‘গ্রেট মিডল বে’ নামে পরিচিত, ত্রিশটিরও অধিক দেশ এবং প্রায় তিন বিলিয়ন মানুষকে সংযুক্ত করে। জাপানের জন্য এ মহাসাগরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর এবং এর মাধ্যমে আমাদের প্রায় ৭৮ শতাংশ জ্বালানি আমদানি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বঙ্গোপসাগর বিশ্বের সবচেয়ে বড় উপসাগর। বাংলাদেশ যদি তার সমুদ্রসীমার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায়, তাহলে আমাদেরকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পারস্পরিক অংশীদারিত্বে আরো উচ্চমাত্রায় কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মহেশখালী কেন্দ্রিক উপকূলীয় উন্নয়ন ও কৌশলগত অবকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মিডা, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বতন্ত্র দাতা প্রতিষ্ঠান সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে সরকারের ২০টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার চিহ্নিত ফিশারিস ও মেরিন অ্যাফেয়ার্স সংক্রান্ত বিষয়ে অগ্রাধিকারের ওপর কাজ করবে।
এ সহযোগিতার আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে— জাপানের ব্লু ইকোনমি মডেল ও সমুদ্রকেন্দ্রিক উপকূলীয় উন্নয়ন পদ্ধতি মহেশখালী এলাকায় প্রয়োগের সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ, মৎস্য ও উপকূলীয় পর্যটন নিয়ে বেসলাইন স্টাডি, অবকাঠামো, উন্নয়ন যেমন- জেটি, অটোমেটেড ফিশ ল্যান্ডিং ও কোল্ড-চেইন অবকাঠামো এবং গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, সামুদ্রিক খামার, সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সি-সেফটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণ।
উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য রাখেন— মালদ্বীপের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবদুল্লাহ সিয়াজ, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এমাদুল ইসলাম, মিডার সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ এবং পিস অ্যান্ড পলিসি সল্যুশনস-এর উপদেষ্টা ড. মুগধো মাহজাব।