বাসস
  ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৪

গণভোট বিষয়ে ঝালকাঠিতে অবহিতকরণ কর্মশালা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে ঝালকাঠিতে এক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  ছবি : বাসস

‎ঝালকাঠি, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে ঝালকাঠিতে এক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় গণভোটের গুরুত্ব, ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন এবং গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির নানা দিক তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মমিন উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এ বি এম রফিকুল ইসলাম, বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন এবং ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আককাস সিকদারসহ আরও অনেকে।

‎সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, গণভোট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে মত প্রকাশের সুযোগ পায়। তিনি বলেন, গণভোটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের মতামতকে সম্মান দেওয়া এবং একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। 

জেলা প্রশাসক বলেন, ভোটাররা যেন ভয়ভীতি বা প্রভাবমুক্ত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গণভোট আয়োজনই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, গণভোট সফল করতে হলে নিরপেক্ষ তথ্য প্রচার এবং ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব।

মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, জুলাই বিপ্লবে যারা আহত ও নিহত হয়েছেন, গণভোট হচ্ছে তাদের আত্মত্যাগের প্রতি জাতির দায় শোধ করার একটি সুযোগ। এটি শুধু একটি ভোট নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ভোট। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে এই দায় শোধ করতে হবে। 

‎উল্লেখ্য, গণভোট বাংলাদেশে এ পর্যন্ত তিনবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে, দ্বিতীয়টি ১৯৮৫ সালে রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে। সর্বশেষ গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে যায় দেশ।

দীর্ঘ বিরতির পর সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগে আবারও গণভোট আলোচনায় এসেছে।

কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। অতিথিদের বক্তব্যে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ গণভোট নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।