বাসস
  ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩১

বরিশালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে, বেশি আক্রান্ত শিশুরা

ছবি : বাসস

মোফাজ্জল হোসাইন

বরিশাল, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): শৈত্যপ্রবাহের ধারাবহিকতায় বরিশালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত বিভিন্ন বয়সী রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে বয়স্কদের পাশাপাশি বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। হাসপাতালগুলোতে শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ রেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। তবে সংকট থাকলেও রোগীদের সব ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার দুটি শিশু ওয়ার্ডে রোগীদের চাপ বেড়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৪১ শয্যার বিপরিতে ভর্তি আছে ৩০০ এর অধিক শিশু। আর দুটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছেন ১৫০ এর বেশি রোগী। পাশাপাশি হাসপাতালের বহিঃভাগেও রোগীদের ভিড় বাড়ছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রাম থেকে অনেক মা-বাবা শিশুদের নিয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কেউ কেউ শিশুর জ্বর ও ঠান্ডার জন্য স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাইয়েছেন। এতে শিশু সুস্থ না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

রোগীর স্বজনরা বলছেন, প্রচন্ড শীতের কারণে পেটে ব্যথ্যা, ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া নিয়ে তারা হাসপাতালে এসেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রোগীর স্বজন আলেয়া বেগম বলেন, প্রথমে গ্রামে ডাক্তার দেখাই। জ্বর কমে বাড়ে। পরে বরিশাল হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে আসার পর পরিক্ষা করে দেখি বাচ্চার নিউমোনিয়া হয়েছে। নাজমা বেগম নামে আরেক স্বজন বলেন, স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানোর পরও জ্বর ও কাশি না কমায় বরিশাল নিয়ে আসি। পরে জানতে পারি নিউমোনিয়া হয়েছে। এখন চিকিৎসা চলছে।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, আন্তওয়ার্ড ছাড়াও বহির্বিভাগে সরকারি খোলার দিন চিকিৎসা নিচ্ছে গড়ে  ৫০০ এর অধিক শিশু। এদের মধ্যে এখন বেশিরভাগই জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছে। অনেকে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ না হয়ে পরে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন। আগের তুলনায় দেড়গুণ রোগী বেড়েছে বলে বলছেন চিকিৎসকরা।

বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (শিশু স্বাস্থ্য) ডা. মো. নুরুল আলম বলেন, এখন হাসপাতালে স্বাভাবিকের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সকাল ৯টা থেকে ২ টা পর্যন্ত ডিউটি থাকলেও এখন তিনটা পর্যন্ত রোগী দেখতে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, এখন ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। এধরনের রোগী সামনে আরো বাড়বে।  এছাড়া মা তার সন্তানকে যে কাপর দিয়ে ঢেকে রাখে তাতে ঘাম থেকেও শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে। তাই তিনি মায়েদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। 

অন্যদিকে, হাসপাতালের পরিচালক বলছেন, তারা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বেড সংকট দূর করা গেলে সেবার মান আরও বাড়ানো যাবে বলে মনে করেন পরিচালক।
 
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মসিউল মুনীর বলেন, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা কম। তারপরও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদান করে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের চেয়ে বেশি বেগ পোহাতে হয় নার্সদের। সব রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এই সময়ে সকল অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 

আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই ঠান্ডাজনিত রোগের সংক্রামণ বাড়ছে বলেও জানান চিকিৎসকরা। সচেতনতা বাড়ালে ও চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিলে ঠান্ডাজনিত রোগের সংক্রমণ কমবে বলে মনে করেন তারা।

বরিশালের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে বরিশালে সর্বনিন্ম ৯ ডিগ্র সেলসিয়াস তাপমাত্রা থেকে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।