শিরোনাম

রাঙ্গামাটি, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আজ ৮ জানুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মহাপরিনির্বাণ প্রাপ্ত ধর্মীয় গুরু, আর্য পুরুষ শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভন্তের ১০৭ তম জন্মবার্ষিকী।
বনভন্তের জন্ম দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজবন বিহারে রাখা বনভন্তের বিজ্ঞান ও বিনয় সম্মতভাবে বিশেষ কফিনে রাখা মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বৌদ্ধাধর্মালম্বীসহ সর্বস্তরের মানুষ।
রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমীয় খীসা বাসসকে জানান, বৌদ্ধধর্মালম্বীদের ধর্মীয় গুরু শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভন্তের ১০৭ তম জন্মদিন উপলক্ষে রাঙ্গামাটি রাজবনবিহার পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে সাতদিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
বনভন্তের জন্মদিন উপলক্ষে আজ ৮ জানুয়ারি রাজবন বিহার মাঠে সকাল থেকে শুরু হয়, বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। এসব ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল অষ্টপরিস্কার, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তি দানসহ নানাবিধ ধর্মীয় দানানুষ্ঠান। আজ সকাল থেকেই কফিনে রাখা বনভন্তের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে রাজবন বিহারে নেমেছে পাহাড়ি বাঙ্গালীসহ হাজারো মানুষের ঢল।
সকালে রাজবন বিহারে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ধর্মদেশনা প্রদান করেন রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান (অধ্যক্ষ) ভদন্ত প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির।
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও রাঙ্গামাটি সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দীপেন দেওয়ান, রানি ইয়েন ইয়েন, রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি গৌতম দেওয়ান, বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ হাজারো পুর্ণার্থীরা। সভায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বনভন্তের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাসহ দেশের মঙ্গল কামনা করেছেন সকলে।
উল্লেখ্য, বৌদ্ধধর্মালম্বীদের ধর্মীয় গুরু আর্যপুরুষ শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে ১৯২০ সালের ৮ জানুয়ারি রাঙ্গমাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের মোড়ঘোনা গ্রামের জন্মগ্রহণ করেন। বনে-জঙ্গলে সাধনা করেছিলেন বলে তিনি বনভন্তে হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি শিশুকাল থেকেই ধ্যান সাধনা করতেন। দীর্ঘ সাধনার পর অবশেষে তিনি সিদ্ধিলাভ করেন। তারপর শুরু করেন ধর্ম প্রচার।
বনভন্তে ২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারি ৯৩ বছর বয়সে পরিনির্বাণ (দেহত্যাগ) লাভ করেন। বনভন্তে সবসময় শান্তির কথা বলতেন। বনভন্তের সেই শান্তির বানী বুকে ধারণ করে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকুক সে প্রত্যাশাই করেছেন সকলে।