শিরোনাম

নাজিউর রহমান সোহেল
ঢাকা, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের কাজে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক (৬ষ্ঠ-৯ম) ও মাদ্রাসা স্তরের (ইবতেদায়ি) বই মুদ্রণের কাজ ইতোমধ্যে ৯০ দশমিক ১২ শতাংশ শেষ হয়েছে। সারাদেশে বই সরবরাহের গড় হারও ৮০ দশমিক ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ইবতেদায়ি স্তরে সর্বোচ্চ ৯৬ শতাংশের বেশি বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ‘২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহ’ সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্য নির্ধারিত সর্বমোট ৩০ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪ কপি পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে ইবতেদায়ি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪টি পাঠ্যপুস্তক বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং দেশের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসগুলোতে বই পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করছে এনসিটিবি।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সচিব প্রফেসর মো. সাহতাব উদ্দিন বাসস’কে বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যবস্থাসহ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের কাজে সংশ্লিষ্ট সব অনুসঙ্গ ঠিক থাকলে আগামী ১৫ জানুয়ারির আগেই অবশিষ্ট বইয়ের মুদ্রণ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তবে, স্থানীয় উপজেলা শিক্ষা অফিস পর্যায়ে অবশিষ্ট বইগুলো সরবরাহ বা পৌঁছে দিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন সচিব।’
স্তরভিত্তিক অগ্রগতির চিত্র : পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইবতেদায়ি স্তরে মোট ৩ কোটি ১১ লাখ ১৯ হাজার ৩৪৭ কপি বইয়ের বিপরীতে ৯৬ দশমিক ১৬ শতাংশ বই সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। এই স্তরে মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের কাজ প্রায় ৯৮ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরের মধ্যে নবম শ্রেণিতে বই সরবরাহে বড় সাফল্য দেখা গেছে। এই স্তরে বরাদ্দকৃত ৫ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার ২৮ কপি বইয়ের মধ্যে ৮৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ বই ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।
এছাড়া, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৮৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ বই সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। এই শ্রেণিতে ৪ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০৯টি বইয়ের মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশের বেশি বাঁধাই কাজ শেষ হয়েছে।
অন্যদিকে, সপ্তম শ্রেণিতে ৭১ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণিতে ৫৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। এই দুই স্তরে বর্তমানে মুদ্রণ ও সরবরাহের কাজ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চালানো হচ্ছে। ৭ম শ্রেণিতে মুদ্রণ কাজ শেষ হয়েছে ৮৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং ৮ম শ্রেণিতে ৭৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।
এনসিটিবি’র পরিসংখ্যান প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাধ্যমিক স্তরে মোট ৪০৮ কোটি ২৪ লাখ ৪ হাজার ৪৬০টি ফর্মা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে সার্বিকভাবে মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের হার যথাক্রমে ৯০ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ৮৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
এনসিটিবি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস. এম. আসাদুজ্জামান বাসস’কে বলেন, ‘বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ নতুন বই পৌঁছে দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবি এবং মুদ্রণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যেসব স্তরে সরবরাহের হার কিছুটা কম রয়েছে, সেখানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বই পৌঁছানোর জন্য এ সংক্রান্ত মনিটরিং কমিটি দিয়ে বিশেষ তদারকি করা হচ্ছে। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে শতভাগ বই সরবরাহ করার চেষ্টা চলছে।’