বাসস
  ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১১

বরগুনায় শীতের তীব্রতায় জনজীবন চরম বিপর্যস্ত

ছবি : বাসস

হাফিজুর রহমান 

বরগুনা, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : জেলায় গত চারদিন ধরে সূর্য না ওঠায় ঘন কুয়াশা এবং শীতের তীব্রতায় জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। রাস্তাঘাটে ও দোকানপাটে তেমন লোকজন দেখা যায় না। শ্রমজীবী মানুষ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। শীতের দাপটে দরিদ্র মানুষের আয় বন্ধ থাকায় সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘড় থেকে কেউ বের হচ্ছেন না। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। পেটের দায়ে শীত উপেক্ষা করে কাজে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন শ্রমজীবীরা। শীত নিবারণের জন্য বিভিন্ন স্থানে শীতার্ত মানুষের খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।

অপরদিকে, প্রচন্ড ঠান্ডায় শিশু, প্রবীণসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের বেড়েছে সর্দি, কাশিসহ শীত জনিত নানা রোগ। বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে শীতজনিত রোগে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর ভীড়।

সরেজমিনে সদরের ঢলুয়া ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রামের দিন মজুর আবুল কালামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, গত তিনদিন ধরে কোন কাজ পাইনি। তাই পরিবারের খরচ চালাতে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে।

গত শুক্রবার কিছু সময়ের জন্য সূর্যের আলোর দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা এখনো তেমন একটা কমেনি। ফুটপাথসহ রাস্তার অলি গলিতে ভ্যান গাড়ি এবং শীতের কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের ভীড় দেখা গেছে। শীতের কাপড়ের দোকানদার হোসেন আলী বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে বরগুনায় শীত বেশি পড়ার কারণে শীতের কাপড় বিক্রি বেড়ে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বরগুনা জেলা প্রশাসন।

বরগুনা জেলা প্রশাসনের উদ্দোগে শীতের তীব্রতা নিবারণে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে প্রতিদিন বিকালে শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করছেন, জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার। 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস, এনডিসি এবং সহকারী কমিশনার মো. সাইফুল ইসলামের উপস্থিত থেকে এ সব কম্বল বিতরণ করেন। 

গতকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বরগুনা সদরের বড়ইতলা ফেরিঘাট, পোটকা খালী, বাসস্ট্যান্ড ও বড়িয়াল পাড়া এলাকায় এক হাজার শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন। 

বড়ইতলা এলাকার মোসা. রাহিমা (৫২) বলেন, প্রচন্ড শীতে প্রশাসন থেকে একটি কম্বল পেয়ে আমার অনেক ভালো লাগছে, কিছুটা হলে ও শীত নিবারণ করতে পারবো। বাসস্ট্যান্ড এলাকার আবদুল হামেদ মিয়া (৬০) বলেন, শীতের সময়ে একটি কম্বল আমার পরিবারের জন্য অনেক উপকার হবে। গরীব মানুষের মধ্যে কম্বল দেয়ায় জেলা প্রশাসনকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।

গতকাল শনিবার এ বিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বাসসকে বলেন, অক্টোবর মাসে যে বরাদ্দ ছিল তা দিয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত সদর উপজেলায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে এক হাজারের বেশি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরো কিছু কম্বল বিতরণ করা হবে। নতুন কিছু কম্বলের জন্য জেলা প্রশাসক কাছে চেয়েছি, তা পেলে বিতরণ করা হবে।

বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিমেষ বিশ্বাস বাসসকে বলেন, শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত আছে। প্রধান উপদেষ্টার তহবিল থেকে পাঁচ হাজার শীতবস্ত্র বরাদ্দ পেয়েছি। আরও শীতবস্ত্র কেনার জন্য বারাদ্দ পাওয়া গেছে, অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। ওইসব শীতবস্ত্র আসলেই শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে। 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধারাবাহিক কর্মসূচি হিসেবে শীতার্ত মানুষের মধ্যে এ কম্বল বিতরণ কাজ চলমান রয়েছে।