বাসস
  ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৯

জামালপুরে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মধু সংগ্রহকারীরা

জামালপুরের সাতটি উপজেলায় এ বছর মধু সংগ্রহের জন্য সরিষা ক্ষেতে ৩৬৬৫টি মৌমাছির বাক্স স্থাপন করেছেন মধু সংগ্রহকারীরা। ছবি : বাসস

।। মো. মুখলেছুর রহমান।।

জামালপুর, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): জেলায় এ বছর সরিষা ক্ষেতে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মধু সংগ্রহকারীরা (মৌয়াল)। জামালপুরের সাতটি উপজেলায় এ বছর মধু সংগ্রহের জন্য সরিষা ক্ষেতে ৩৬৬৫টি মৌমাছির বাক্স স্থাপন করেছেন মধু সংগ্রহকারীরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) অফিস সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ৫২৫৫ কেজি মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। 

২০২৫-২০২৬ সালে জেলায় কৃষকেরা ৪০৯৮২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করলেও ২৪০৫ হেক্টর সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, মধু সংগ্রহকারীরা জেলার সাতটি উপজেলায় ৩৬৬৫টি মৌমাছির বাক্স স্থাপন করেছেন। মোট ২২ জন মধু সংগ্রহকারী বাক্স স্থাপন করেছেন যার মধ্যে জামালপুর সদরে ২৪০টি, সরিষাব্রিতে ৫৫৫টি, মেলান্দহে ৭৮০টি, ইসলামপুরে ৩৬০টি, দেওয়ানগঞ্জে ৬৮০টি এবং বকশীগঞ্জ উপজেলায় ১০৫০টি।

ডিএই অফিস সূত্র আরো জানিয়েছে, জামালপুর সদরে ২ জন মধু সংগ্রহকারী ৬২০ কেজি, সরিষাব্রিতে ৪ জন সংগ্রহকারী ৮২০ কেজি, মেলান্দহে ৩ জন সংগ্রহকারী ১৩২৫ কেজি, ইসলামপুরে ৩ জন সংগ্রহকারী ৩৭০ কেজি, দেওয়ানগঞ্জে ৪ জন সংগ্রহকারী ৪৩০ কেজি এবং বকশীগঞ্জ উপজেলায় ৬ জন সংগ্রহকারী ১৬৯০ কেজি মধু সংগ্রহ করেছেন। 

ফরিদপুর জেলার মধু সংগ্রহকারী মো. নাঈম জানান, মেলান্দহ উপজেলায় কাজাইকাটা এলাকায় তিনি ২৫০টি মৌমাছির বাক্স স্থাপন করেছেন। কিন্তু সূর্যের আলো কম থাকায় মধু সংগ্রহ সন্তোষজনক নয়। তিনি বলেন, আরো ১০ দিন মধু সংগ্রহ করে জামালপুর ছেড়ে অন্য জেলায় চলে যাবেন। 

আরেক মধু ব্যবসায়ী মো. ওবিদুল্লাহ বলেন, তিনি ২০১৮ সাল থেকে এই ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলায় ২০০টি বাক্স স্থাপন করেছেন। খারাপ আবহাওয়ার কারণে গত এক মাস ধরে বকশীগঞ্জে থাকার সময় মাত্র একবার মধু সংগ্রহ করেছেন বলে জানান। তিনি এবং তার সঙ্গে আরও পাঁচজন মধু সংগ্রহের জন্য এক মাস ধরে সেখানে অবস্থান করছেন বলে জানান।
তিনি জানান, এক মণ (৪০ কেজি) মধুর বাজার মূল্য ১১৫০০ থেকে ১২০০০ টাকা, কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে আমরা কম দাম পাচ্ছি।

মধু ব্যবসায়ী মো. সেলিম হোসেন বাসসকে বলেন, সরিষার মধুর চাহিদা প্রচুর, কিন্তু জলবায়ু ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে মধু উৎপাদনে তাদের ক্ষতি হয়েছে।

বিপণন কর্মকর্তা আনামুল হক বলেন, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সরিষার মধু ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, তাদের বাড়ির বেশিরভাগ সদস্যই মধুর ব্যবসা করেন।

সিন্ডিকেটের বিষয়টি অস্বীকার করে পাঁচ বছর ধরে মধু ব্যবসা পরিচালনা করে আসা ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জেলায় কোনও বড় ব্যবসায়ী নেই। এ মৌসুমে প্রতি মণ খাঁটি সরিষার মধু ১১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরা ইয়াসমিন বাসসকে জানান, তিনি মাঠের মধু সংগ্রহকারীর কাছ থেকে প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় সরিষার মধু সংগ্রহ করেছিলেন। এখানের উৎপাদিত সরিষার মধু খাঁটি এবং স্বাস্থ্যের জন্য পুষ্টিকর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বাসসকে বলেন, এ বছর জামালপুরের কয়েকটি উপজেলায় সরিষা চাষ দেরিতে করা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সরিষা ক্ষেতে ফুলও দেরিতে আসছে। এছাড়াও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকার কারণে মধু সংগ্রহকারীর সংখ্যা কমে গেছে।