বাসস
  ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:২৭
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:৩৮

রাজশাহীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লাভজনক মিশ্র ফল চাষ

ছবি : বাসস

 মো. আয়নাল হক

রাজশাহী, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : রাজশাহী অঞ্চলে মিশ্র ফল চাষ এখন জনপ্রিয় ও লাভজনক হয়ে উঠেছে। একই জমিতে ফল ও অন্যান্য ফসল বা সবজি একসঙ্গে চাষ করা হচ্ছে। এতে আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জমির গুণগত মানও ভালো থাকছে।

এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রজাতির আম, মাল্টা ও লেবু, এমনকি ড্রাগন ফলের মতো নতুন ফসলও চাষ করা হচ্ছে। অধিক উৎপাদনশীলতা ও সম্পদ ব্যবহারের দক্ষতার জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে সেচ, ছাঁটাই-ব্যবস্থাপনাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

একই জায়গা থেকে আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে চাষিরা একই জমিতে একাধিক ফলগাছের সঙ্গে নানা ফসল রোপণ করছেন।

ফল-সবজি মিশ্র চাষ স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে এবং বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অনেক কৃষক এ আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন কারণ এতে কম সময়ে একই জমি থেকে অতিরিক্ত আয় হচ্ছে, যা কৃষক,ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সবার জন্যই লাভজনক।

আম, মাল্টা ও ড্রাগনের সঙ্গে পেয়ারা, লেবু, শসা, বেগুন, পেঁপে, মুলা, বরবটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাল শাক, মরিচ, পটল, লাউ ও করলা ইত্যাদি মিশ্র ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে।
চারঘাট উপজেলার বাসিন্দা জামাল হোসেন জানান, অনেক কৃষক আমের সঙ্গে ধানসহ বিভিন্ন শস্য মিশ্র ফসল হিসেবে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কারণ এতে অতিরিক্ত আয় হয়। 

তিনি বলেন, মিশ্র ফসল পদ্ধতি মোট উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটির উর্বরতা ও স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং আমের ফলন বা গুণগত মানের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।

এটি নিবিড় ফসল উৎপাদনের ফলে অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে-যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো সক্রিয় করছে।

জামাল আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত কয়েক বছর ধরে শুধু ধান চাষে কৃষকরা সমস্যায় পড়ছেন। তাই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা আমের সঙ্গে ধান, পেঁয়াজ, রসুন, বেগুন, সরিষা, হলুদ ও পেঁপে চাষ করছেন। ভালো ফলনের জন্য কৃষকরা নতুন পদ্ধতিতে নতুন আমবাগানও করছেন।

জামাল হোসেন জানান, আমার আট বিঘার আমবাগানে মৌসুমি ফসলের মিশ্র ফসল চাষ করছি। এতে আমি বাড়তি আয় পাচ্ছি।

পবা উপজেলার হুজরিপাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা প্রকৌশলী সরওয়ার জাহান ২০২০ সালে নয় বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান করেছেন। এ মৌসুমে তিনি একই জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও কাঁচা মরিচ চাষ করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে মরিচ বিক্রি করে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা এবং মাল্টা বিক্রি করে প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করেছেন।

তিনি জানান, ফুলকপি ও বাঁধাকপিও ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। ফসল কাটার পর তিনি কুমড়া ও শসার চারা রোপণের পরিকল্পনা করেছেন।

একই উপজেলার পুঠিয়াপাড়া গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক মোফাক্কার  হোসেন তার তিন বিঘার ড্রাগন ফলের বাগানে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ড্রাগন ও সবজি চাষে বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছেন এবং এতে তার জীবনে অর্থনৈতিক মুক্তি এসেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বাসসকে বলেন, কৃষকদের আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছে, কারণ তারা কম সময়ে বেশি লাভ পাচ্ছেন।

সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে মিশ্র পদ্ধতিতে সবজি চাষ হয়েছে।

তিনি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলসহ পুরো অঞ্চলে মিশ্র ফসল চাষের প্রসার ঘটছে। কারণ, কৃষকরা এভাবে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে গত কয়েক বছর ধরে শুধু ধানের ওপর নির্ভর করে থাকা কৃষকরা সমস্যায় পড়ছে। আয় বাড়াতে এবং ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তারা আমগাছের সঙ্গে ধান, পেঁয়াজ, রসুন, বেগুন, সরিষা, হলুদ ও পেঁপে চাষ করছে। নতুন নতুন পদ্ধতিতে আমবাগানও তৈরি করছে কৃষকরা।