বাসস
  ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:২৫

শীতে লালমনিরহাটে জমজমাট পুরোনো পোশাক বিক্রি

ছবি: বাসস

\ সাব্বির আহমেদ \

লালমনিরহাট, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : হিমালয়ের পাদদেশ ঘেঁষা লালমনিরহাটে আগেই নেমে এসেছে শীতের তীব্র হাওয়া। তিস্তা তীরবর্তী হওয়ায় প্রতিবছরই এ জেলায় শীতের তীব্রতা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি থাকে। জেলায় নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় শীতের শুরুতেই পুরোনো শীতবস্ত্রের বাজারে ভিড় জমে মানুষের। এ বছরও ব্যতিক্রম নয়। আর এই মৌসুম ঘিরে পুরোনো পোশাক বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক মানুষ।

জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, রেলস্টেশন ও ব্যস্ততম স্থানে পুরোনো জ্যাকেট, সোয়েটার, কম্বল, কোট, মাফলার ও গ্লাভসের দোকানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

পুরোনো কাপড়ের দোকানগুলোতে কাপড়ের গুণগত মান ভালো হওয়ায় শুধু নিম্ন আয়ের মানুষই নয়, সচ্ছল মানুষরাও এগুলো কিনছেন। কম দামে মানসম্মত গরম পোশাক পাওয়ায় এখন এটি সব শ্রেণির মানুষের জন্যই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
এই মৌসুমে পুরাতন কাপড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন কয়েক হাজার মানুষ। লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ ও পাটগ্রাম উপজেলায় প্রতিবছর শীতের সময় কয়েক হাজার মৌসুমি ব্যবসায়ী ফুটপাথ, স্টেশন ও হাটে এসব দোকান বসান। এতে অনেক পরিবার মৌসুমি আয়ের সুযোগ পায়।

আদিতমারী রেলস্টেশনের ভ্রাম্যমাণ পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, প্রতিবছর শীতে পুরোনো কাপড়ের ব্যবসা করি। সৈয়দপুর ও ঢাকা থেকে মানসম্মত কাপড় সংগ্রহ করি। গুণগত মান ভালো হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। তাই প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে। শুধুমাত্র নিম্ন আয়ের মানুষ নয়, অনেক স্বচ্ছল ক্রেতারাও এখান থেকে শীতের কাপড় কিনছেন।

বিক্রেতারা জানান, তাপমাত্রা কমার সাথে সাথে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। অনেক দোকানি নতুন করে শীতের পোশাক চালান আনছেন চাহিদা মেটাতে।

মৌসুমী এসব পুরোনো পোশাকের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০০০ টাকা  লাভ করছেন এ মৌসুমে। এক মৌসুমে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফা করছেন তারা, আবার শীত শেষ হলে অন্য পেশায় ফিরে যাচ্ছেন। 

স্থানীয়রা বলছেন, তিস্তা নদীর পাশে হওয়ায় হিমেল বাতাস ঠান্ডা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। অক্টোবরের শেষ দিকে শুরু হওয়া শীত ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি ভোগান্তি তৈরি করে। ভোগান্তি এড়াতে পুরোনো কাপড়ের দোকানগুলোতে গুণগতমানের ভালো কাপড় পাওয়ায় সেখান থেকে কেনাকাটা করছেন তারা।

এদিকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কুড়িগ্রাম আবহাওয়া অফিস। গত সপ্তাহে লালমনিরহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং চলতি সপ্তাহে তা ১৪ ডিগ্রিতে উঠানামা করছে। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।