বাসস
  ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ২০:৫৫

খুলনায় ট্রিপল মার্ডারের ক্লু উদ্ঘাটন : মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেফতার ৩

খুলনা, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ (বাসস) : খুলনার লবণচরা এলাকায় শিশু ফাতিহা (৭), মুস্তাকিম (৮) ও তাদের নানি মহিতুন্নেছা (৫৩) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। 

জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এই তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ফ্রান্স প্রবাসী মো. শামীম শেখ ওরফে শেখ শামীম আহম্মেদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন শামীম।

আজ শনিবার দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ এসব তথ্য জানান। 

তিনি জানান, রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে ১ একর ৬৯ শতক পৈতৃক জমি নিয়ে নিহত শিশুদের বাবা শেফার আহমেদের সঙ্গে তার মামাতো ভাই শামীমের বিরোধ চলছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করেই শামীম প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন।

তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সালে একটি অস্ত্র মামলার আসামি ছিলেন শামীম। পরে তিনি ফ্রান্সে চলে যান এবং ২০১৭ সালে দেশে ফেরার পর গ্রেপ্তার হন। জেলখানায় থাকাকালে এক সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। সেখান থেকেই শেফারের পরিবারকে হত্যার পরিকল্পনা করে তিনি ভাড়াটে খুনিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এক লাখ টাকার বিনিময়ে সাতজনকে নিয়ে এই হত্যা মিশন পরিচালনা করেন শামীম।

গত ১৬ নভেম্বর শামীমের নেতৃত্বে সাতজন শেফার আহমেদের লবণচরা এলাকার দরবেশ মোল্লা গলির বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী শেফার আহমেদ ও তার স্ত্রী রুবি আক্তারকে হত্যা করতে না পারলেও তাদের দুই শিশু সন্তান ও মহিতুন্নেছাকে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যা করে বাড়ির মুরগির খামারের কক্ষে লাশ ফেলে রাখে। 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, ঘটনার পর শামীম দেশ ছেড়ে ফ্রান্স পালাতে চেষ্টা করছিলেন। গত ২৭ নভেম্বর রাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া একই মামলায় লবণচরা থানার মোল্লাপাড়া এলাকার তরিকুল ইসলাম তারেক (২৬) এবং জিন্নাহপাড়া এলাকার তাফসির হাওলাদারকে (২০) আটক করা হয়েছে। তাদের দু’জনের বিরুদ্ধেই পূর্বের অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর লুট হওয়া জমির দলিলপত্র ও স্বর্ণালংকার এখনও উদ্ধার হয়নি। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে নিহত দুই শিশুর বাবা শেফার আহমেদ ও মা রুবি আক্তার উপস্থিত ছিলেন।