বাসস
  ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৪:৪৪

জনবল সংকটে ব্যাহত মিনি মৎস্য বীজ খামারের উৎপাদন

জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে জেলার মিনি মৎস্য বীজ খামারের উৎপাদন। ছবি : বাসস

।। জীতেন বড়ুয়া।।

খাগড়াছড়ি, ৩০ আগস্ট, ২০২৫(বাসস): জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে জেলার মিনি মৎস্য বীজ খামারের উৎপাদন। খামারটি স্থাপনের ৮ বছরেও জনবল নিয়োগের প্রশাসনিক আদেশ জারি না হওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়েছে রেনু ও পোনা উৎপাদনের কাজ। অস্থায়ী শ্রমিক দিয়ে মিনি হ্যাচারিতে রেনু উৎপাদনের কাজ চললেও জনবল নিয়োগ না দিলে ভবিষ্যতে ব্যাহত হতে পারে মৎস্য উৎপাদন কার্যক্রম। মিনি মৎস্য হ্যাচারির রক্ষণাবেক্ষণ ও  মৎস্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে দ্রুত জনবল নিয়োগে দাবি জানিয়েছেন মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে মৎস্য উৎস ও উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাণিজ আমিষের পুষ্টি জোগান এবং পাহাড়ি জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে মিনি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার স্থাপন করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্যচাষ  উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ২০১২ সালে হ্যাচারি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের জুন মাসে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে হ্যাচারির নির্মাণকাজ শেষ হয়। হ্যাচারি স্থাপনের ৮ বছর পার হলেও জনবল নিয়োগ দেয়নি মৎস্য অধিদপ্তর। 

বর্তমানে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা অস্থায়ী ভিত্তিতে  হ্যাচারির ‘খামার  ব্যবস্থাপক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। হ্যাচারি ব্যবস্থাপক, টেকনিশিয়ান,অফিস সহায়ক ও হ্যাচারি পাহারা দেওয়ার জন্য নাইট গার্ডসহ ৮ টি পদে জনবল নিয়োগের কথা থাকলেও সাত বছরে তা দেয়া হয়নি। খামারের ব্যবস্থাপক অস্থায়ী ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে হ্যাচারির রেনু ও পোনা উৎপাদন করছেন। তবে স্থায়ী জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন কাজ। 

স্থানীয় মৎস্য চাষিরা জানান, রেনুর উৎপাদন বাড়ালে জেলার মৎস্য রেনুর চাহিদা মেটানো যাবে এবং চাষিরা ভালো মানের পোনা পাবে। 

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি মিনি মৎস্য হ্যাচারি নির্মাণের সময় বছরে ৩০ লাখ রেনু এবং ১ লাখ পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে হ্যাচারিটিতে মোট ৭টি পুকুর ও বিজ্ঞান সম্মত একটি রেনু ও পোনা উৎপাদন প্রসেসিং সেন্টার রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এ হ্যাচারি মৎস্য খামারিদের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। 

জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মৎস্য খামারিরা চাহিদামতো মাছের পোনা ও রেনু না পাওয়ায় একদিকে বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য চাষ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এ জেলার মৎস্য খামারিরা। ফলে ভেস্তে যেতে বসেছে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি মৎস্য হ্যাচারিটি।

মৎস্য চাষি মো. হাফিজুর রহমান ও আনন্দ মোহন চাকমা বাসসকে জানান, এখানকার উৎপাদিত পোনার গুণগত মান ভালো। তবে তাদের জনবল কম থাকায় উৎপাদন কম হয়। অনেকে জেলার বাইরে থেকে পোনা আনতে বাধ্য হচ্ছেন। এখানে উৎপাদন বাড়ালে জেলার মৎস্য চাষিদের চাহিদা মিটবে।

বর্তমানে হ্যাচারিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছে ৬ জন শ্রমিক। তারা মা মাছ ধরা, রেনু ও পোনা উৎপাদন কাজে নিয়োজিত। 

এই হ্যাচারিতে কর্মরত অস্থায়ী শ্রমিক জীবন চাকমা বাসসকে বলেন, ‘এখানে আমরা অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করি। মাসে মাত্র ৫ হাজার টাকা বেতন পাই। আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা দরকার।’
খাগড়াছড়ি মিনি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার এর দায়িত্বপ্রাপ্ত খামার ব্যবস্থাপক শরৎ কুমার ত্রিপুরা বলেন, হ্যাচারি স্থাপনের পর জনবল নিয়োগের কথা থাকলেও নির্মাণের ৮ বছর পরও জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। জনবল নিয়োগ না হলে হ্যাচারি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে । 

তিনি আরো জানান, নানা সংকটের মধ্যেও প্রতিবছর মে ও জনু এ দুই মাসে এক থেকে দেড় লাখ বিভিন্ন মাছের পোনা ও ত্রিশ থেকে বত্রিশ কেজি মাছের রেনু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে চলেছে হ্যাচারি। যা থেকে মৎস্য 
অধিদফতরের পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। 

খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ বাসসকে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে । ইতিমধ্যে মৎস্য অধিদপ্তর এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে।