বাসস
  ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৩:৫০
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৪:৫৩

রাকসু’র ৬৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান

তাসিন খান। ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী, ৩০ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) প্রতিষ্ঠার ৬৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী শিক্ষার্থী হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন তাসিন খান।

গতকাল শুক্রবার সকাল দশটার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে এ প্রার্থীতার ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এই শিক্ষার্থী।

তার এ ঘোষণার পর থেকে রাকসু নির্বাচন নিয়ে নতুন করে নানা ধরণের আলোচনা শুরু হয়েছে। 

৬৩ বছরে যে সাহস কোনো নারী শিক্ষার্থী দেখাতে পারেনি সেটি তিনি দেখিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তাকে শুভকামনা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে রাকসু প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ১৪টি নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী বা নির্বাচিত ভিপি দেখা যায়নি। এবার দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরে রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে একাধিক ছাত্রী হল সংসদের শীর্ষ পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেও কেন্দ্রীয় সংসদের ভিপি পদে তাসিন খান প্রথম নারী হিসেবে প্রার্থীতার ঘোষণা দিয়েছেন।

ব্যক্তিগত টাইমলাইনে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে তাসিন খান লেখেন, ‘আমরা রক্তক্ষয়ী জুলাইয়ের সাক্ষী হয়েছিলাম। আন্দোলনের সময় যখন আবাসিক হলগুলো বন্ধ করে সকল শিক্ষার্থীদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, সেই সংকটকালে আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক পরিষদে যুক্ত হই। আমি তখন নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে নিয়েছিলাম যে হয়তো আর কখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা হবে না। বেঁচে থাকলেও পরবর্তী জীবন হয়তো জেলে না হয় পলাতক হয়ে কাটাতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, ৫ আগস্ট পরবর্তী এই জীবনে আমি আমার বোনাস আয়ু পার করছি।’

তিনি আরো লেখেন, ‘এই বোনাস সময়ে আমার কিছু হারানোর ভয় বা প্রাপ্তির লোভ নাই। জুলাই আমাকে বিবেকের গুরুত্ব খুব ভালোই উপলব্ধি করিয়েছে। সামনে একাধিক সুযোগ আসার পরেও আমি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়াকে শ্রেয় মনে করিনি। তবে আমি বরাবরই রাজনীতি সচেতন ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাই এবং দলান্ধতাকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করি।’

তাসিন খান তার পোস্টে আরো লিখেন, ‘রাকসু একটি ঐতিহাসিক সুযোগ আমাদের কাছে। এর গুরুত্ব উপলব্ধি করেই আমি আমার দক্ষতার জায়গা থেকে কিছু পরিকল্পনা  সমেত এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। এটা আমার কাছে অনেক বড় বিষয়। কারণ আমার কোনো দলীয় সাপোর্ট, ফান্ডিং বা কর্মী বাহিনী নাই। এই প্রেক্ষিতে শুধু একজন নারী প্রার্থী হিসেবেই নয় বরং একজন ভোটার হিসেবে অসংখ্যবার সাইবার নিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা আশঙ্কার কথা প্রশাসনের কাছে বলার পরেও তারা এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সকল ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে আগাচ্ছি। বাকিটা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।’

প্রার্থিতা ঘোষণা করে তিনি লেখেন, ‘আমি চাই এমন একটি রাকসু, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক বহুত্ব, এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা হবে প্রতিদিনের বাস্তবতা। দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা এই প্লাটফর্মকে সক্রিয় ও কার্যকর করার লক্ষ্যে আমি আসন্ন রাকসু নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করছি।’

এ বিষয়ে রাকসুর নারী ভিপি প্রার্থী ঘোষণাকারী তাসিন বাসস’কে বলেন, আমি প্রথমে জেনে অবাক হয়েছি গত ৬৩ বছরের ইতিহাসে আমি প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী। আমি মনে করি এইটা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)’র জন্য একটা হতাশার বিষয়। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর আমেজ ছড়িয়ে পড়তে থাকে তখন খেয়াল করলাম এখানে শুধু রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোর অংশগ্রহণই স্বতঃস্ফূর্ত। রাকসুকে একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ভেবে আমরাই তাদের জন্য ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দিচ্ছি। আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এখানে মানুষের সংকট রয়েছে।

তিনি বলেন, এই অবস্থা নিয়ে আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ও ঘনিষ্ঠজনদের থেকে পরামর্শ এবং উৎসাহ নিয়ে রাকসু নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই নির্বাচন ঘিরে শুধু আমার না সকল প্রার্থীর জন্য বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, এরমধ্যে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে সাইবার নিরাপত্তা সহ সার্বিক নিরাপত্তা। প্রশাসন বারবার লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড-এর কথা বললেও বিভিন্ন মতাদর্শের সহাবস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যা নারী প্রার্থী হিসেবে আমার জন্য আরও ভয়ানক প্রমাণ হতে পারে।

তাসিন তার ইশতেহারে জানান, আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় সবার আগে একটি শিক্ষাক্ষেত্র। এখানে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই আমার প্রথম প্রায়োরিটি। আমি জানি আবাসন সমস্যা, নিরাপত্তা, পুষ্টির চাহিদা, হাইজিন থেকে শুরু করে যাবতীয় সমস্যায় একটা আরেকটার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমি বিজয়ী হলে সব শিক্ষার্থী ভাইবোনদের জন্য কাজ করবো।