বাসস
  ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৮

রাজশাহীতে গাছে গাছে আমের সোনালি মুকুলের সমারোহ, বাতাসে মিষ্টি ঘ্রাণ

রাজশাহী মহানগর ও উপজেলাগুলোতে গাছে গাছে আমের সোনালি মুকুলে ভরে গেছে। ছবি : বাসস

।। ওমর ফারুক।।

রাজশাহী, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রাজশাহী মহানগর ও জেলার উপজেলাগুলোতে গাছে গাছে আমের সোনালি মুকুলে ভরে গেছে। শহর থেকে গ্রামের বাগানজুড়ে সোনালি মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে। এ যেন মুকুলের সমারোহ। আমের মুকুলে প্রকৃতির রূপও বদলেছে। আশাবাদী হয়ে উঠেছেন জেলার হাজারো আমচাষি। এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে।  অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছেন তারা।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, শীতের শেষভাগে তুলনামূলক কম বৃষ্টি এবং মাঝারি তাপমাত্রা আমের মুকুল গঠনের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে। হালকা কুয়াশা থাকলেও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ না থাকায় মুকুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা কম। ফলে এবার গাছে গাছে মুকুলের উপস্থিতি আগের বছরের তুলনায় বেশি বলে দাবি চাষিদের।

রাজশাহীর চারঘাট, বাঘা, পবা ও গোদাগাড়ী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় চোখে পড়ছে একই দৃশ্য—সারি সারি আমগাছ মুকুলে ছেয়ে আছে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর মুকুলের পরিমাণ বেশি হতে পারে।

দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রাজশাহী। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। জেলায় উৎপাদিত উল্লেখযোগ্য জাতের মধ্যে রয়েছে হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি ও আম্রপালি।

প্রতিবছর এই জেলাতেই দেশের বড় একটি অংশের আম উৎপাদন হয়, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম বিক্রির প্রবণতাও বেড়েছে।

মুকুল বেশি হলেও চাষিদের চিন্তার জায়গা একেবারে নেই—এমন নয়। তারা বলছেন, হঠাৎ শিলাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি কিংবা তীব্র ঝড় হলে মুকুল ঝরে যেতে পারে। এছাড়া পোকামাকড় ও ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণ থেকেও সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

বাঘা উপজেলার এক অভিজ্ঞ আমচাষি জানান, এবার গাছে যে পরিমাণ মুকুল এসেছে, আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন খুব ভালো হবে। তবে এখনই নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। নিয়মিত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হবে। এ থেকে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৬ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুকুল আসার সময় গাছে সঠিক পরিচর্যা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই দমনে সচেতন থাকলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি তারা আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

আম মৌসুমকে ঘিরে রাজশাহীর অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বাগান পরিচর্যা, আম সংগ্রহ, প্যাকেজিং, পরিবহন—সব মিলিয়ে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়। ভালো ফলন হলে কৃষক থেকে শুরু করে পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ী—সবার মুখেই হাসি ফুটবে।

সব মিলিয়ে, আমের মুকুলে ভরে ওঠা রাজশাহী এখন নতুন স্বপ্নের প্রতীক। প্রকৃতির অনুকূলতা বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে রাজশাহীর আম আবারও দেশের বাজারে সুনাম বয়ে আনবে এমন প্রত্যাশায় দিন গুণছেন চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মিতা সরকার বলেন, এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হবে। এ থেকে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৬ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আম যাতে আশানুরূপ উৎপাদন হয় সে ব্যাপারে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।