বাসস
  ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫৬

আমি ফিরে এসেছি দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে: মির্জা আব্বাস

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে। জীবনের শেষ দিনগুলো যেন মানুষের জন্য কাজ করতে পারি— সকলের কাছে সেই দোয়া চাই।’

আজ বিকেলে আসরের নামাজের বিরতির পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস এই দোয়া চান।

তিনি বলেন, 'আপনারা দোয়া করবেন— আমি যাতে বাকি সময়টুকু বেঁচে থাকি দেশ এবং জাতির জন্য, দেশের জন্য যেন কিছু করতে পারি।'

মির্জা আব্বাস বক্তব্য দেওয়ার সময় কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। তার বক্তব্যের সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ অধিকাংশ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারিতে হুইল চেয়ারে বসা মির্জা আব্বাসকে দেখে শুভেচ্ছা জানান স্পিকার।

ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারিতে মির্জা আব্বাসের উপস্থিতি ঘোষণা করে স্পিকার বলেন, ‘সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন দীর্ঘ পাঁচ মাস চিকিৎসার পর দেশে ফিরে এসেছেন।

আপনাকে (মির্জা আব্বাস) এই সংসদে স্বাগতম জানাচ্ছি।'

এই পুরো জাতীয় সংসদের সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে তাকে স্বাগত জানায়। হুইল চেয়ারে বসা মির্জা আব্বাস ডান হাত একটু উঠিয়ে সালাম জানান।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে গতকাল রাতে দেশে ফেরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস।

আসরের নামাজের বিরতির পর মির্জা আব্বাস সংসদে কিছু বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই সময়ে স্পিকারের চেয়ারে বসা ছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

প্রথম সারিতে পাঁচ নম্বর আসনটি মির্জা আব্বাসের। হুইল চেয়ারে বসা বলে তিনি সেখানে যেতে পারেননি।

প্রথম সারিতে বিএনপির সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমানের মাইক থেকে বক্তব্য রাখেন মির্জা আব্বাস।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, একজন সংসদ সদস্যের প্রতি সংসদ স্পিকারের এই মানবিক ও আন্তরিক আচরণ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়, এটি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক সৌন্দর্য্যরে উজ্জ্বল উদাহরণ।'

তিনি বলেন, 'আপনাদের ভালোবাসা ও আন্তরিকতার কথা আমি কোনোদিন ভুলব না। মহান জাতীয় সংসদ স্পিকার হিসেবে আপনার দায়িত্বের পাশাপাশি একজন মানুষ হিসেবে যে মর্মত্ববোধ আপনি দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি আপনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।'

বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন মির্জা আব্বাস।

আজকের দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন ও স্মরণীয় একটি দিন মন্তব্য করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, '২০০৬ সালের পর দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পেরিয়ে আজ আবার মহান জাতীয় সংসদের এই পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত আর কী হতে পারে।'

গত ১১ মার্চ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় সংসদে না আসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় চিকিৎসার জন্য আমাকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় থাকতে হয়েছে।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সংসদের অধিবেশনে নিয়মিত উপস্থিত হতে পারিনি।’

তিনি বলেন, 'চিকিৎসা শেষে প্রথমবার সংসদে উপস্থিত হতে পেরে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। একই সঙ্গে অসুস্থতার সময়ে যারা দোয়া করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন এবং পাশে থেকেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।'

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, অসুস্থতার সময়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। এজন্য তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনি নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আমাকে দেখে এসেছেন। একজন সংসদ সদস্যের প্রতি সংসদের স্পিকারের এই মানবিক ও আন্তরিক আচরণ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। আপনার এই ভালোবাসা ও আন্তরিকতার কথা আমি কোনোদিন ভুলব না। এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়; এটি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক সৌন্দর্যের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।'

তিনি আরো বলেন, ‘আজকে সংসদে ফিরে এসে আমার কাছে মনে হয়েছে, রাজনীতি শুধু মতের পার্থক্য নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য; সংসদ শুধু বিতর্কের জায়গা নয়, এটি মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন।'

নিজের নির্বাচনী এলাকা ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার কথা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, মহান আল্লাহ যেন সুস্থতা ও শক্তি দেন, যাতে অবশিষ্ট সময় আরো নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করতে পারি।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন কণ্ঠে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসা, শুভ কামনা ও দোয়া আমাকে কঠিন সময় অতিক্রম করতে সাহস জুগিয়েছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ দান করুন। আমি সকল সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। 

তারা আমার জন্য যথেষ্ট দোয়া করেছেন। বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমার সুস্থতা কামনা করেছেন। দলমত নির্বিশেষে আমি সবার কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন।'

সংসদের বিরতির সময়ে মির্জা আব্বাস প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিজের চেম্বারে কিছু সময় কাটান। এ সময় সংসদ সদস্যরা তার সাথে দেখা করে কুশল বিনিময় করেন।