বাসস
  ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০

দেশে সার সংকট নেই, কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ফাইল ছবি

সংসদ ভবন, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : দেশে সারের কোনো সংকট নেই দাবি করে কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। তবে একটি সংগঠিত চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে সংসদে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

আজ জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য আখতার হোসেনের কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধির আওতায় জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত মৌসুমে একই সময়ে সরকারের কাছে ১২ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত ছিল। বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ সরকারি গুদাম ও ওয়্যারহাউসে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে।

তিনি বলেন, একটি সংগঠিত দল সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আগামী দিনগুলোতে তা আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, গত বছর সংশ্লিষ্ট জেলায় একই সময়ে সারের বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৫৯০ টন। অথচ চলতি বছর একই সময়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮৪৭ টন। ফলে সার কোথায় যাচ্ছে এবং কেন সংকট তৈরি হচ্ছে- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সারের ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সারের ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় তিনজন করে ডিলার রাখার বিধান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে দু'জন ডিলার রয়েছেন, যাদের মাস্টার ডিলার বলা হয়। নতুন নীতিমালায় প্রতিটি ইউনিয়নে আরও একজন ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক ডিলারও রয়েছে।

অনিয়মে জড়িত ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত ডিলারদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

নীতিমালা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় চালের গুদাম ও ধানের মিলে সার পাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার, জরিমানা ও সাজা দেওয়া হচ্ছে।

দেশে সারের মোট চাহিদা বছরে ৪০ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিক টন উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মূলত ইউরিয়া সার উৎপাদন করে এবং কিছু টিএসপি উৎপাদন হয়। বাকি সার আমদানি করতে হয়।

ইউরিয়া আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৌদি আরব ও কাতার থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কাতার থেকে সার সরবরাহে সমস্যা হলেও সৌদি আরব এখন পর্যন্ত পোর্ট পরিবর্তন করে সার সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। কাতার থেকে যে পরিমাণ সার আমদানি করা হতো, তার ঘাটতি পূরণে কানাডা ও মরক্কো থেকে সার আমদানি করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘সুতরাং সারের কোনো ক্রাইসিস নাই।’

তিনি জানান, বিভিন্ন সারের বরাদ্দ ও মজুতের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।