বাসস
  ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:২২

বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। ফাইল ছবি

সংসদ ভবন, ১৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশের অতিদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, পুনর্বাসন, সামাজিক সুরক্ষা ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

আজ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্য মো. মোকতার আলী (যশোর-৬)-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন পুনর্বাসন ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পল্লী সমাজসেবা (আরএসএস) কর্মসূচির মাধ্যমে ভূমিহীন ও দরিদ্র গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, প্রাথমিক শিক্ষা, সাক্ষরতা, পরিবার পরিকল্পনা এবং বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী-শিশু পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ সময় আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, পল্লী মাতৃকেন্দ্র (আরএমসি) কর্মসূচির আওতায় সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের গ্রামীণ নারীদের সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে বাঁশ ও বেতশিল্প, সূচিশিল্প, গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ, মৎস্যচাষ, হাঁস-মুরগি পালন, নার্সারি ব্যবস্থাপনা, পাটজাত পণ্য উৎপাদন, নকশিকাঁথা, কাঠের হস্তশিল্প, জাল বুনন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ব্যবস্থাপনা।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, নগর সমাজ উন্নয়ন (ইউসিডি) কর্মসূচি দেশের সব সিটি করপোরেশন ও জেলা সদর পর্যায়ের ৮০টি নগর সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ, কমিউনিটি সংগঠিতকরণ ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের মাধ্যমে নগর এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০০২-০৩ অর্থবছর থেকে সরকারি অর্থায়নে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে দগ্ধ ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এর আওতায় উন্নত চিকিৎসা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হচ্ছে। 

মো. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের ৪৯৫টি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও ৮০টি নগর সমাজসেবা কার্যালয়সহ মোট ৫৭৫টি কার্যালয়ের মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবারভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী উপযুক্ত উপকারভোগীদেরকে চিহ্নিত করে, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি, বেদে, হিজড়া ও চা-শ্রমিকসহ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাত, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা, ভিক্ষুক পুনর্বাসন, হাসপাতাল সমাজসেবা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অশিক্ষিত ও বেকার দরিদ্র যুবকদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে, টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। 
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, নগর সমাজসেবা কর্মসূচির আওতায় ব্যবসা ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠার জন্য ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। আর প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারীরা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জাহিদ হোসেন জানান, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদারে ঢাকার মিরপুর ও রংপুরের শালবনে অবস্থিত দুটি আর্থসামাজিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চামড়াজাত পণ্য, ব্লক-বাটিক, দর্জির কাজ, সূচিশিল্প, বিউটি কেয়ার, গার্মেন্টস উৎপাদন, বাঁশ ও বেতশিল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে তারা সামাজিক ভাতার ওপর নির্ভরশীল না থেকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে পারেন।