বাসস
  ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:১২

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা ভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সংসদ ভবন, ১৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ এবং মাতৃভাষা ভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষক সংকট নিরসনে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

আজ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৯-এর সরকারি দলের সদস্য আন্না মিনজের ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০২ সালে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ এবং বিলুপ্তপ্রায় ৩০টি ভাষা সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিনি জানান, বর্তমানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাঁওতালী—এই পাঁচটি ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও বিতরণ করা হচ্ছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (ন্যাপ) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক শ্রেণি রুটিনে এসব মাতৃভাষার পাঠদান অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে পাঁচটি পিটিআইয়ে মোট ১৫টি ব্যাচে ৪৫০ জন শিক্ষককে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় পাঠদানের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

পরে সম্পূরক প্রশ্নে আন্না মিনজ সংশ্লিষ্ট ভাষার শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার মান তদারকির বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এ বছরও পাঁচটি মাতৃভাষায় নতুন করে ৩৭টি বই প্রকাশ করছে।

তিনি বলেন, চাকমা, গারো, মারমা, ত্রিপুরা ও সাঁওতালী ভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায়ও বহুভাষিক শিক্ষা (এমএলই) সম্প্রসারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতেই সরকার মাতৃভাষায় শিক্ষা, পাঠ্যপুস্তক এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করছে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিক্ষক স্বল্পতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগ এবং তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।