শিরোনাম

সংসদ ভবন, ৯ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ভেজাল খাদ্য বিক্রি প্রতিরোধ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
আজ জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিধিবদ্ধ সংস্থা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় নিয়মিত বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ এবং সরকার স্বীকৃত সরকারি ও বেসরকারি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্য, যেমন- আম, শুঁটকি, খেজুরের গুড়সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩ হাজার ৩৪০ জন খাদ্যকর্মীকে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে ১৫টি সচেতনতামূলক সেমিনার, কর্মশালা ও কর্মসূচি এবং ৯৪টি সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে ৯ হাজার ৪০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিএফএসএর প্রধান কার্যালয়, জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তারা ভেজাল প্রতিরোধে ৬ হাজার ৪৪৪টি খাদ্য স্থাপনা ও বাজার তদারকি করেছেন।
তিনি বলেন, সরকার স্বীকৃত সরকারি ও বেসরকারি পরীক্ষাগারে ৬৭০টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ল্যাবের মাধ্যমে ৩ হাজার ৫৭৪টি এবং মিনি ল্যাবের মাধ্যমে ৪ হাজার ৯৩৮টি খাদ্য নমুনার তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করা হয়েছে।
মো. আব্দুল বারী আরও জানান, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত ও ভেজাল প্রতিরোধে ১৭১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে ২ হাজার ৩৯০ জন গৃহিণীর অংশগ্রহণে ৫১টি সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্মিত নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক ৪টি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে মোট ২২৪ মিনিট প্রচার করা হয়েছে।
এছাড়া জনগণ ও খাদ্য ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে মসুর ডাল, খাদ্যে ক্ষতিকর হাইড্রোজ, গুড়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার পরিহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে ২২টি গণবিজ্ঞপ্তি ৬৯টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করা হয়েছে।