বাসস
  ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫৪

দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে : মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সংসদ ভবন, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন আজ জাতীয় সংসদে বলেছেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আজ সংসদে চট্টগ্রাম-১২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সম্প্রসারণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা প্রদান, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সমন্বয়ে একটি প্রকল্পের আওতায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 'এর মধ্যে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু এবং কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ অন্তর্ভুক্ত।' 

নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের লক্ষ্যে মন্ত্রী বলেন, আনন্দময় ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নৈতিক শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও জীবন দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে তুলতে প্রামাণ্যচিত্র, কুইজভিত্তিক কার্যক্রম এবং পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ‘বিসিএস এডুকেশন একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বর্তমানে ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রস্তাবিত ‘নেক্সটজেন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষণ-শেখার পরিবেশ উন্নতকরণ এবং রিয়েল-টাইম লার্নিং ট্র্যাকিং, সমন্বিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, শ্রেণিকক্ষ তদারকি ও শিক্ষক পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মতো আধুনিক পদ্ধতি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব উদ্যোগ একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এ সময় সংসদকে আরও জানানো হয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে সারা দেশে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা জোরদারে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

এর মধ্যে যেসব উপজেলায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) নেই, সেখানে এসব প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং যেসব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নেই, সেখানে পলিটেকনিক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 'এছাড়া যেসব বিভাগে নারীদের জন্য পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নেই, সেখানে অন্তত একটি করে নারী পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। 

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, 'চলমান প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।' 

মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত বিভিন্ন প্রকল্পে তরুণদের জন্য স্বল্পমেয়াদি কোর্স চালু, পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য সফট স্কিল ও ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সব ধরনের শিক্ষাধারাকে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনা এবং কারিগরি শিক্ষার সনদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে ১০ স্তরবিশিষ্ট বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ) প্রণয়ন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুমোদন দিয়েছে।

তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার সব স্তরে বিএনকিউএফ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংযোগ জোরদার এবং ডুয়াল সার্টিফিকেশন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষ, অভিযোজনক্ষম ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জনশক্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে সরকার বিশ্বাস করে।